লে-অফের সিদ্ধান্তটি ভেবে দেখা দরকার

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০

গাজীপুরে এখনো শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। প্রচণ্ড খরতাপের কষ্ট আর করোনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকরা অনেক জায়গায় রাস্তায় শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ করছেন। দাবি একটাই- তাদের প্রাপ্য মজুরিটুকু তারা যাতে বুঝে পান। আসলে পুরো সময়টাই অস্থির। একদিকে অর্থনীতি, অন্যদিকে জনগণের প্রতিদিনকার চাহিদা মেটানো। সরকার, শিল্প-কারখানার মালিক-শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সব কিন্তু একই সরলরেখায় থেকে অর্থনীতির কাজটা করে যান। গত ২৫ তারিখ থেকে শিল্প-কারখানা বন্ধের পর অর্থ কষ্ট শুরু হবে তা বোঝাই যাচ্ছিল। কিন্তু এ কষ্ট থাকত না যদি শ্রমিকরা সবাই বেতনভাতাগুলো ঠিকমতো পেতেন। যদিও বিজেএমইএ থেকে বলা হচ্ছে বেতনভাতা পরিশোধ করা হয়েছে ৭৫ ভাগেরও উপরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানেই।

বর্তমানে নতুন একটি সিদ্ধান্তের কথা বলা হচ্ছে। বিভিন্ন দুর্যোগকালীন মুহূর্তে শ্রম আইন ২০১৬ অনুযায়ী ফ্যাক্টরি লে-অফ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন মালিকরা। এখন লে-অফে গেলে কোন কোন সুযোগ-সুবিধাগুলো হারাবে শ্রমিক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা পুনরায় ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। খুব সহজ পন্থায় আইনের শিকলে ফেলে বঞ্চনা সৃষ্টি করা হলে তাতো আবার সরকারের মূল অর্থনীতিতেই আঘাত হানবে। তখন সরকার কি করবে?

লে-অফ করার ফলে এক বছর হয়নি এমন কর্মী ছাঁটাই করার পদ্ধতি যদি উন্মোচিত হয় তবে আগে ছাঁটাই না করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক হয়ে যাবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার বাইরের কোনো শ্রমিক যদি টাকা না পান তিনি কীভাবে চলবেন এই দুঃসময়ে। অনেকে বলছেন মানবিক কারণেই লে-অফের মতো আইনে যাওয়া উচিত হবে না কিন্তু আমি বলতে চাইছি লে-অফের বিষয়টি যদি তোলাই হবে প্রণোদনা ঘোষণার আগে কেন তোলা হলো না? প্রধানমন্ত্রী বেতনভাতা দিয়ে দেয়ার ঘোষণার পর এমন সিদ্ধান্তে অনেক শ্রমিক যদি তাদের প্রাপ্য টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন তবে তা হবে সত্যিই আরেকটা বড় ধাক্কার শামিল।

আমাদের এ সময়ে চিন্তাগুলো সঠিকভাবে করতে হবে। এমন কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না যাতে করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। লে-অফের মতো আইন থাকলেও অন্তত দুই মাস পর থেকে তা কার্যকর করার চিন্তা করা প্রয়োজন বিশেষ করে এমন মহামারির সময়ে। অনেক পরিবার একজনের আয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে, সেখানে একজন শ্রমিক এক বছর পূর্ণ না হওয়ার কারণে কোনো টাকা না পেলে তাতে তার পরিবারে ধস নামার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং বিজেএমইএ এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ লে-অফের মতো আইনটি প্রয়োজনে রিভিউ করে দ্রুত রোল জারি করে তা কীভাবে সংশোধনে আনা যায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আকুল আবেদন রাখছি।

মনে রাখতে হবে শ্রমিক যারা রয়েছেন তাদের শ্রমেই এ বাংলাদেশ অর্থনীতিতে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আশা করি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।

সাঈদ চৌধুরী
শ্রীপুর, গাজীপুর

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj