ভূতের গল্প নিয়ে ভিডিও তৈরির পরিকল্পনা করছি

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০

করোনা ভাইরাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন অভিনেতা ইরেশ যাকের এবং দেশের এই সংকটে কী ভাবছেন তিনি, এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয় ভোরের কাগজের। কথা বলেছেন রাব্বানী রাব্বিবর্তমান পরিস্থিতিতে কেমন আছেন?

সবার মতো আমিও বাসাতেই আছি। সবকিছু নিয়ে একটু চিন্তিত। এমনিতে অফিসের কাজ করছি বাসা থেকে। ফোনের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে অফিসের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

চিন্তার বিষয়গুলো যদি একটু খোলাসা করে বলতেন…

আমাদের অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে একটু উদ্বিগ্ন। যেমন আমাদের যে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, এমন প্রতিষ্ঠানের কাজ অনেক ক্ষেত্রে চলছে। টেলিভিশন এবং নিউজপেপারে বিজ্ঞাপন হচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গার কাজ একদম থেমে গেছে। আমি একটু চিন্তা করি, ঢাকার বাইরে কী হচ্ছে? কারণ সারাদেশে দোকানপাট বন্ধ। এমন চলতে থাকলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ে যাবে। ওদের সারভাইব করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আমার মনে হচ্ছে যে, এদের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কিনা। এখন তো পুরোদমে সবকিছু চালু রাখা সম্ভব না; যদি স্বল্প পরিসরে হলেও এই সব ছোট ছোট দোকান চালু রাখা যেত, তাহলে মানুষজনের কিছু আয়-উপার্জন হতো। কেউই আশা করছেন না, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির শিগগিরই উন্নতি হবে। এই অবস্থায় কেউ ভোগান্তি পোহাক, তা কেউই চায় না। তাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। অবশ্য অনেক গুণীজন ভাবছেনও।

তার জন্য আপনি কী ভেবেছেন?

বর্তমানে ৬৮ ভাগ ছোট দোকান বন্ধ। সে ক্ষেত্রে পাড়ার দোকানগুলো যদি সাত দিন ১২ ঘণ্টা খোলা রাখার বদলে তিন দিনও চালু রাখা যায় তবেও সাপ্লাই চেইন কিছুটা ঠিক থাকবে। মানুষের কাছে তো দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছাতে হবে, যারা দ্রব্য রেখেছে তাদের তো বিক্রি করতে হবে। না হলে তো দ্রব্য নষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি নষ্ট হয়ে যায় তবে পরবর্তী প্রোডাক্ট সাইকেল তারা কীভাবে কিনবে- সেই জায়গায় তাদের আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থাও দরকার। এছাড়া যে পরিবারগুলো মাস এনে মাস খায় (নি¤œ মধ্যবিত্ত, যাদের অনেক বেশি সেভিংস নেই) অবস্থায় থাকে; তারা ত্রাণের জন্যও কোথাও যাবে না। আমার মনে হয়, সমাজের এই শ্রেণিটা খুব ভোগান্তি পোহাবে। এই শ্রেণিটা কিন্তু আমাদের সমাজের বিরাট একটা অংশ। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি সাইজ (এসএমই) শুধু দোকানদারদেরই প্রায় ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের (১৬০ হাজার কোটি টাকা) একটা মার্কেট। এখন তো বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলোর অনেক গাড়ি পড়ে আছে, ম্যান পাওয়ার পড়ে আছে। তাদের দিয়ে যদি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পণ্য পরিবহনে কাজে লাগানো যায়, তবে আমাদের যে বিরাট অর্থনৈতিক ধাক্কাটা খেতে হবে তা একটু হলেও প্রতিহত করতে পারব। তা এখনই করতে হবে এবং অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে করতে হবে।

টিভি প্রোগ্রাম প্রডিউসারস এসোসিয়েশন থেকে কোনো প্রকার সাহায্যের উদ্যোগ নিয়েছেন কি?

আমরা ব্যক্তিগতভাবে কিছু টাকা সংগ্রহ করেছি। সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছি। আমরা, তারপর ডিরেক্টরস গিল্ড কিছু টাকা তুলেছিল, তা খুব বেশি টাকা না। এটা দিয়ে কয়েকটি পরিবার কষ্টসিষ্টে এক মাস চলতে পারবে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে চাপে পড়ে যাবে। আর আমাদের খুব কম প্রডিউসারসেরই টাকা আছে, তারাও অনেকটা এসএমই। কাজ বন্ধ থাকলে তারাও বিপদে পড়ে যাবে।

বাসায় ক্রিয়েটিভ কিছু করছেন?

আমার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কিছু ছবি তুলছি। এটার একটা অ্যালবাম বানাচ্ছি। এছাড়া বাসায় বসে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে কথা বলে ২ মিনিটের ভূতের গল্প নিয়ে ভিডিও তৈরির পরিকল্পনা করছি। বই পড়া ও লেখালেখির চেষ্টা করছি।

বিনোদন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj