জ্বর-সর্দি-কাশিতে ৬ দিনে পাঁচ জনের মৃত্যু, ঈশ্বরগঞ্জে আতঙ্ক

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০

রুহুল আমীন খান, ময়মনসিংহ থেকে : জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে জেলার ঈশ্বরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গত ৬ দিনে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকালে এক কলেজছাত্র এবং রাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবরে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও মারা যাওয়া পরিবারের লোকজন থাকছেন না ঘরে। কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে রাতেই লাশ দাফন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুজনের জানাজাতেই এলাকার লোকজন অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের মধুপুর বাজারে আব্দুল বারেক (৬০) নামে এক বৃদ্ধ গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছিলেন। এ অবস্থায় পরিবারের লোকজন প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ালেও সেরে ওঠেননি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নিজ বসতঘরেই মারা যান। অপরদিকে একই দিনে বিকালে মারা যান উচাখিলা ইউনিয়নের গোল্লা জয়পুর গ্রামে বোনের বাড়িতে থাকা কলেজছাত্র মো. হোসেন আলী (২০)। তিনি হলেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেরার জল্লি গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। গত ৪ দিন আগে জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলাব্যথা নিয়ে ঢাকা থেকে বোনের বাড়িতে আসেন। সেখানে অবস্থানের সময় মারা যান। পরে রাতে তড়িঘড়ি করে লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। এ দুটি ঘটনার পর এলাকার লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হলেও পরিবারের লোকজন নিজেদের ঘরে আটকে রাখেননি। উপরন্তু বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছেন।

জানা যায়, মারা যাওয়া কলেজছাত্র হোসেনের ভাগ্নি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হওয়ায় তার অবস্থা বেগতিক দেখে গতকাল বুধবার ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও উপজেলার কাঁকনহাটি গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার মারা গেছেন। একই দিন সন্ধ্যায় মারা যান মাইজবাগ ইউনিয়নের কবীরভুলসোমা গ্রামের মো. নেওয়া আলীর মেয়ে নাজমা বেগম (২৫)। পরদিন সন্ধ্যায় মারা যান তার চাচা আব্দুর রাজ্জাক (৫৫)। দুজনেরই জ্বর, সর্দি ও কাশি ছাড়াও ছিল শ্বাসকষ্ট। এই ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ওই সব এলাকার লোকজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নুরুল হুদা খান মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তিরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তারা আগে থেকেই নানা অসুখে ভুগছিলেন। তাছাড়া করোনা পরীক্ষা করার মতো আমাদের কোনো ইক্যুইপমেন্ট ছিল না। আজ (বুধবার) এসেছে। এ ব্যাপারে আমরা আরো তৎপর থাকব।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বরত পরিচালক আবুল কাশেমের (স্বাস্থ্য) কাছে ঈশ্বরগঞ্জে গত ৬ দিনে ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি সম্পূর্ণ অজনা। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এটি একমাত্র সিভিল সার্জন বলতে পারেন বলে জানান তিনি। কিন্তু বারবার সিভিল সার্জনকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এদিকে এ পরিস্থিতিতে এলাকায় করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj