জনশূন্য কমলাপুর: কুকুর ও টোকাই একাকার নির্জন প্লাটফর্মে

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০

এন রায় রাজা : বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশ প্রায় লকডাউন। যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ হয়েছে গত ২৪ মার্চ থেকে। কমলাপুর রেলস্টেশনে এমনই সময়ে যে জনসমাগম থাকে এখন তা আর নেই। এখন একেবারেই জনমানবহীন। আর স্টেশন সংলগ্ন লোকোওয়ার্ডে ঠুংঠান শব্দ, কাজ চলছে মেরামতের। কমলাপুর স্টেশন সংলগ্ন লোকোওয়ার্ডে চলছে মেরামতের কাজ।

কোথাও ইঞ্জিনের সার্ভিসিং চলছে তো কোথাও চলছে রেলপার্টি মেরামতের কাজ। এত জনমানব শূন্য স্টেশন চত্বর দেখেননি বলে জানিয়েছেন স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আরএনবির কর্মীরা। গতকাল রবিবার রাজধানীর কমলাপুরে রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। প্রতিদিন যে স্টেশনে প্রায় ১ লাখ মানুষ আসা যাওয়া করে থাকেন সেই কমলাপুর স্টেশনের প্লাটফর্মে গতকাল শুধুমাত্র কয়েকটি কুকুর আর ছিন্নমূল দুচারজন টোকাইকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ২৪ মার্চ বিকাল থেকে দেশের সব রুটে ট্রেন চলাচলা বন্ধ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। তবে স্বল্প পরিসরে মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে।

নিরাপত্তায় থাকা আনসার কর্মী সিরাজ জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু এমন জনমানব শূন্য কমলাপুর তিনি কখনো দেখেননি। একটি অদৃশ্য ভাইরাস গোটা স্টেশন নয় পুরো ঢাকা শহরই প্রায় জনশূন্য করে দিয়েছে। কবে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হবে সে আশায় আছেন সবাই।

এদিকে বন্ধের সময় তাদের কোনো ছুটি নেই বলে জানান রেলের মেকানিক্যাল বিভাগের কর্মী সাইদুর রহমান।

তিনি বলেন, আমাদের কোনো ছুটি নেই। ৮ ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হচ্ছে। কারণ রেল চলাচলা বন্ধ থাকলেও রেলের ইঞ্জিন চালু রাখতে হয়। তা না হলে ইঞ্জিন বসে যায়।

এছাড়া ইঞ্জিনের কোনো সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। তাছাড়া রেল পার্টি, সিগন্যাল, ক্রসিং পয়েন্ট সব কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। রেলের প্রতিটি বগি চেক করে ব্রেকসহ কোনো ধরনের ত্রুটি রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানান কর্মীরা।

তারা জানান, প্রতিদিন তিন শিফটে কাজ করছেন তারা। প্রতি শিফটে ৮ থেকে ৯ জন করে আছেন।

ভোর ৫টা থেকে শুরু হয়ে চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তারা জানান, যাত্রীবাহী ট্রেন না চললেও মালবাহী কিছু ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং সে সব ট্রেনের সিগনালসহ সব কাজ করতে হচ্ছে। আবার মালামাল রিসিভ করা এবং তা গোডাউনে নেবার কাজও করছেন বেশ কয়েকজন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj