লকডাউনেও পেটের দায়ে রাস্তায় নিম্ন আয়ের মানুষ

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

দেব দুলাল মিত্র : করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে অবরুদ্ধ দেশ। থেমে গেছে সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। মানুষের চলাফেরা থমকে যাওয়ায় রাস্তাঘাট সুনসান হয়ে গেছে। এ কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নিম্ম আয়ের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এসব মানুষের মধ্যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এই বিপর্যয়ের মধ্যেও শুধু পেটের দায়ে কিছু মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছে। তবে এই অবস্থায় বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করার উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কার্যত লকডাউন হয়ে যাওয়ার কারণে রিকশাচালক, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গার্মেন্ট শ্রমিক, বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানার শ্রমিক, নি¤œস্তরের কর্মচারী ও ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে সম্পৃক্তরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

তাদের হাতে নগদ অর্থ না থাকায় খাবারের সংস্থানও করতে পারছেন না। এ ধরনের অসহায় মানুষের জন্য গতকাল রাজধানীর কোথাও কোথাও বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করতে দেখা গেছে।

গতকাল দুপুরে ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে স্থানীয়দের সহায়তায় খিচুরি বিতরণ করতে দেখা গেছে। দুপুর ২টার দিকে ধানমন্ডির শঙ্কর বাসস্ট্যান্ডের সামনে ভিক্ষার আশায় বসে ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ রোকেয়া বেগম। হাতে ১৫ টাকা থাকলেও খাবার কিনে খাওয়ার উপায় ছিল না। এ সময় একটি বাইসাইকেলে এক যুবক এসে সামনে দাঁড়ায়। সাইকেলের দুপাশে দুটি বড় চটের ব্যাগ ঝুলছিল।

ব্যাগের ভেতর থেকে একটি প্লাস্টিকের বাটি বের করে রোকেয়া বেগমের হাতে দিয়ে বললেন, ‘ভেতরে খিচুরি আছে’। মহিউদ্দিন নামের ওই যুবক জানান, ১৫ নম্বর এলাকার এক বড়ভাই শুধু মাত্র প্রকৃত দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি ঘুরে ঘুরে বিতরণ করছেন।

এই সময় এক রিকশাচালক মহিউদ্দিনের কাছে একটি খিচুরির বাটি চায়। কিন্তু মহিউদ্দিন জানায়, ‘শুধুমাত্র দুস্থ মানুষদের দেয়া হবে। তুমি তো দুস্থ না।’ একথা বলেই মহিউদ্দিন আবার প্রকৃত দুস্থ মানুষের খোঁজে সামনে চলতে শুরু করে। মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে পলিথিনের ব্যাগে চাল-ডাল ও পেঁয়াজ বিতরণ করতে দেখা গেছে। সেখানে দেখা গেছে পলিথিনগুলোতে ৫ কেজি চাল ও আধা কেজি করে বিদেশি পেঁয়াজ রয়েছে। ল্যান্ড ডেভলপার প্রতিষ্ঠান ‘সেলটেক’-এর উদ্যোগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ‘অনেস্ট’-এর তিন কর্মসূচি : করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই শহরের নিম্ম আয়ের মানুষও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এদের সহযোগিতায় চট্টগ্রামের মানবিক সংগঠন ‘অনেস্ট’ তিনটি কর্মসূচি নিয়েছে।

মূলত বিভিন্ন ব্যক্তির অনুদানে ‘অনেস্ট’ পরিচালিত হয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ যাওয়া মানুষদের সহযোগিতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা করে দিচ্ছে।

‘অনেস্ট’-এর কর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রকৃত দুস্থ মানুষদের খোঁজে বের করে সহযোগিতা দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, নগরীর অনেক বিত্তবান ব্যক্তিরা অনেস্টের এই উদ্যোগের বিষয়টি জানার পর নিজেরা খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য অনেস্ট-এর কাছে দিয়ে যাচ্ছেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj