আসুন সরকারের নির্দেশনা মানি

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

পৃথিবীতে বহুবার বহু মহামারি এসেছে- কলেরা, গুটি বসন্ত, প্লেগ, এইডস, সার্স, সোয়াইন ফ্লু, ইবোলায় মারা গেছে হাজার হাজার মানুষ। আবার মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, নতুনভাবে জীবন শুরু করেছে। পৃথিবীতে নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হলো গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে, এই রোগের উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহরে, বিজ্ঞানীরা যার নাম দিয়েছেন কোভিড-১৯, যার মূল কারণ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। বর্তমানে বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে ১৯২টি দেশ আক্রান্ত। মাত্র তিন মাসের মধ্য এটি বিস্তারলাভ করেছে সমগ্র বিশ্বে। সাম্প্রতিক সময়ে এত বড় দুর্যোগের মুখোমুখি পৃথিবী আর হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান এটিকে মহামারি ঘোষণা করে এটি প্রতিরোধে ইতোমধ্যে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কথা জেনেছি যেমন- অন্যদের থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা, মাস্ক পরা, ঘন ঘন হাত সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে পরিষ্কার করা, যেখানে-সেখানে কফ ও থুথু না ফেলা, হাত দিয়ে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ না করা, হাঁচি-কাশির সময় হাত দিয়ে ও টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা, ঘন ঘন পানি পান করা ইত্যাদি। এই রোগের সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক না থাকলেও অনেকেই নানা ওষুধের প্রেসক্রিপশন করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার প্রস্তুতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করছেন। আমার মতে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অনেক ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিন্তু আমরা জাতি হিসেবে সমালোচনা বেশি পছন্দ করি, মানতে পছন্দ করি কম।

আমরা জাতি হিসেবে অনেকবার দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি সাহসিকতা ও সাফল্যের সঙ্গে। উন্নত বিশ্ব যা পারেনি আমরা তা করে দেখিয়েছি বহুবার। কিছু হিসাবের চিত্র কেমন যেন আলাদা সবাই শুধু পালিয়ে বাঁচতে চাইছি। এটা হয়েছে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তনের কারণে, আমরা সবাই যখন নিয়মনীতির মাধ্যমে মোকাবিলা করার কথা তখন আমরা নিজেদের সম্পদ, ভোগ, বিলাসিতা ইত্যাদি করা বা রক্ষার জন্য ব্যস্ত রয়েছি। আমরা নিজেদের নীতিতে পরাহত হয়েছি, দুর্নীতির মাধ্যমে আরোহিত সম্পদের মায়া আমরা ত্যাগ করতে পারছি না। আজ যদি বিশ্বের ২০টি দেশ করোনার আওতামুক্ত থাকত তবে আমাদের দেশের অসৎ ও অযোগ্য মানুষজন সবার আগে সেসব দেশে পাড়ি জমাত। আর যদি আমাদের পাঁচটি শহরকে করোনামুক্ত ঘোষণা করতাম তবে সেখানে দেশের সবাই চলে যেত। করোনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হতো তবে সেসব এলাকায় দ্রুত জনস্রোত হতো বলে আমার বিশ্বাস।

জন্ম হলে প্রতিটি জীবনের পরিসমাপ্তি হবে, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের জীবনযাত্রায়, সমাজ ব্যবস্থায় সর্বক্ষেত্রে আমরা যদি একত্রিত হয়ে করোনার মোকাবিলার মতো ব্যবস্থা নিতাম, আমার বিশ্বাস সমাজ থেকে সব অন্যায় দূর হয়ে যেত। গোটা বিশ্ব যদি সব ক্ষেত্রে, সব ধর্মের, বর্ণের মানুষের সঙ্গে সমান সুযোগ প্রদানের ব্যবস্থা করা গেলে তবে আজ আমাদের এই পরিণতি হতো না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন মানবতা দেখানোর জন্য। কিন্তু বিশে^র অনেক নেতাই মানবিক হতে পারেননি। যেমন- সিরিয়ায় চলমান সহিংসতা। এই সহিংসতায় মৃত্যুর আগে এক শিশু বলে গিয়েছে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দেবে। সৃষ্টিকর্তা হয়তো বিচার শুরু করছেন, এজন্য ইতালির সরকারপ্রধান এখন আকাশের সাহায্য চেয়েছেন। পৃথিবীতে সব ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের সমানভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে। আমরা মানুষরাই তা নষ্ট করেছি। এই স্বল্পস্থায়ী জীবনের লোভ-লালসায়। বিশ^ আজ চরম বাস্তবতার মুখোমুখি। এখন মানুষে মানুষে বিভেদ আর ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের ভেদাভেদ ভুলে আসুন মানুষকে ভালোবাসি। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করি নিজ নিজ সাধ্য অনুযায়ী। সর্বাবস্থায় সব বিপদে সবার পাশে দাঁড়ানোই হলো মানবতা। আমাদের কারণে সৃষ্ট অন্যায়ের মূল্য দিচ্ছি যদি ঠিক না হই তবে আরো দিতে হবে। আসুন সবাই মিলে সবার স্থান থেকে সুন্দর একটা দেশ গড়ি এবং করোনা মোকাবিলায় সরকারের সব নির্দেশ মেনে চলি।

ড. মো. তাসদিকুর রহমান
সাধারণ সম্পাদক, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj