করোনা ভাইরাস আতঙ্ক : ওসমানী হাসপাতালে রোগী কমেছে চার-তৃর্তীয়াংশ

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

জাহিদুল ইসলাম, সিলেট ব্যুরো : প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এড়াতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ১০ দিনের লকডাউনে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে তার দুদিন আগে থেকেই একরকম স্বেচ্ছা লকডাউনে আছেন সিলেটবাসী। রাস্তাঘাট ফাঁকা, নেই টং দোকানের আড্ডা কিংবা কর্মব্যস্ততা। জেলা শহরের সঙ্গে উপজেলাগুলোর যোগাযোগও হয়ে পড়েছে সীমিত। এর ফলে চিরচেনা সেই প্রাণচাঞ্চল্য নেই সিলেটে।

এদিকে যোগাযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় এবং করোনা আতঙ্কে সিলেট নগরীতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের ভিড় নেই বললেই চলে। বেশির ভাগ চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ হয়ে গেছে। সিলেট ওসমানী হাসপাতালের পাশাপাশি রোগী কমেছে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতেও। ওসমানী হাসপাতালের গত ৩ দিনের রোগী ভর্তির চিত্রে দেখা যায়, রোগী কমেছে প্রায় ৪ ভাগের ৩ ভাগ। যেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ২২০০ থেকে ২৪০০ রোগী ভর্তি থাকত, সেখানে গত মঙ্গলবার আবাসিক রোগীর সংখ্যা মাত্র ৬৮৯ জন। রবিবার এই সংখ্যা ছিল ১২৫০ জন। আগে যেখানে হাজারখানেক রোগী প্রতিদিনই নতুন ভর্তি হতো সেখানে মঙ্গলবার নতুন করে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ১৩৮ জন। সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা কমেছে হাসপাতালের বহির্বিভাগেও। রবিবার হাসপাতালটির বহির্বিভাগে সেবা নেন ৮৮৪ জন। একদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার তা কমে দাঁড়ায় ৪৮০ জনে। অনেকের অভিযোগ, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ রোগীরা। আর তাই কমছে হাসপাতালে সেবাপ্রত্যাশীর সংখ্যা।

৯০০ শয্যার এই হাসপাতালে হঠাৎ করেই রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার ব্যাপারে হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় ভোরের কাগজকে বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে লোকজন আতঙ্কিত। এছাড়া বর্তমানে যান চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় খুব জটিল রোগে আক্রান্ত না হলে কেউ হাসপাতালে আসছেন না। তাই রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক রকমের কম। হাসপাতালে সেবা মিলছে না- রোগীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে সব রকমের সেবা চালু আছে, কিছুই বন্ধ করা হয়নি। তাই এসব তথ্যে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। তিনি বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, কোথাও কোনো ব্যত্যয় হয়নি। এখনো আমাদের অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসা চলছে, যারা এখন ভর্তি আছেন তাদের সবাইকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, খুব জটিল রোগ না হলে আপাতত ভর্তি নেয়া হচ্ছে না। ব্যবস্থাপত্র দিয়েই ফেরত পাঠানো হচ্ছে রোগীদের। তবে তার সংখ্যাও কম।

এদিকে করোনা আতঙ্কে বন্ধ রয়েছে সিলেটের বেশির ভাগ ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার। রোগী থেকে করোনা সংক্রমণের ভয়েই ডাক্তাররা তাদের চেম্বার বন্ধ রেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। গতকাল বুধবার বিকালে সিলেট নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। কিছু কিছু ফার্মেসি আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলা থাকলেও ডাক্তার না থাকায় নেই রোগীর ভিড়।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj