স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও টেকসই উন্নয়ন

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পদার্পণ করেছে। স্বাধীনতার সঙ্গে যে ব্যক্তি নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে সে মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। যা একটি জাতির জন্য সত্যিই গর্বের। আমি নিজ চোখে এ মহান নেতাকে না দেখলেও তার জ্বালাময়ী ভাষণ আমাকে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়। তার হাসি, তার আঙুল তুলে বজ্রকণ্ঠের ভাষণ, তার ইতিহাসের মহানায়ক হওয়ার পরিচয় বহন করে আমার কাছে। এ দেশকে যত দেখি তার অপর পিঠে আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখতে পাই। এ মহান নেতার কারণে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। এ স্বাধীন দেশের বয়স মহাকালের বিচারে ৪৯ বছর খুব বড় সময় নয়। তবে এ সময়ের ব্যবধানে কোনো কোনো জাতির অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার নজিরও আছে।

আমাদের এ স্বাধীন দেশও স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। পরিণত হচ্ছে সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রে। অনেক সূচকে দক্ষিণ এশিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। ফলে আজকের বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তবে স্বাধীনতার পর দেশের সবচেয়ে বেশি সাফল্য কৃষি ক্ষেত্রের পরিবর্তনটি আমার দৃষ্টিতে অনেক বেশি স্পষ্ট। কারণ আমি কৃষি নিয়ে পড়াশোনা করেছি, কাজ করি, কৃষকের সঙ্গে মিশি। তাদের সমস্যাগুলোকে নিজের সমস্যা মনে করে পত্রপত্রিকায় তুলে ধরতে চেষ্টা করি। সাফল্যগুলোকে দেশের সব সাফল্য হিসেবে তুলে ধরি। আমার এ পথচলার বিবেচনায় এ কথা অকপটে বললে ভুল হবে না যে, বর্তমান সময়টি কৃষির সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি সময়। সমৃদ্ধ একটি সময়। ফলে ফসলে অভাবনীয় প্রাচুর্য দেখছি আমরা। স্বাধীনতার পর গত ৪৯ বছরে ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ গুণ, যা বিশ্বে চতুর্থ। শাকসবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয়। প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসা মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়, যা চীন-ভারতের পরই রয়েছে। মাছ রপ্তানি বেড়েছে ১৩৫ গুণ। এফএও পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে, তার মধ্যে প্রথম দেশটি হচ্ছে বাংলাদেশ। আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং প্রতি বছরই উদ্বৃত্ত থাকে বিপুল পরিমাণে। এছাড়া আম উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম এবং পেয়ারায় অষ্টম।

তবে এটা ঠিক, আমরা সব সময়ই দেশে ভালো ফলনের খবর রাখি কিন্তু কৃষক উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে তার খরচ তুলতে পারল কিনা তার কোনো হিসাব পাইনি। বিশ্বব্যাপী কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ চলছে অথচ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই প্রমাণিত যে ক্ষুদ্র কৃষকের উৎপাদনের মাধ্যমেই দেশের খাদ্য চাহিদা মেটানো সম্ভব এবং একই সঙ্গে কৃষিকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকাও রক্ষা পাবে। আমরা কি বাংলাদেশে সেই পথে হাঁটছি? যদিও কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ও ভোক্তা পর্যায়ে নিরাপদ সবজি, ফল সহজলভ্য করতে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে কৃষকের বাজার চালু করা হয়েছে, যেখানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারজাত করছে। ক্রমান্বয়ে এই ব্যবস্থা জেলা-উপজেলা শহরে সম্প্রসারিত করা হবে। ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ভুট্টা চাষ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সহায়তা অব্যাহত আছে। এছাড়া কাজু বাদাম, কফি ইত্যাদি অর্থকরী ফসল চাষ ও বাজার ব্যবস্থা উন্নয়নে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। বিশাল এই সেক্টরে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও উল্লেখযোগ্য নজর নেই বলে বিস্তর অভিযোগ। মাঝেমধ্যে নানামুখী উদ্যোগ-পরিকল্পনা নেয়া হয় ঠিকই কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয় না, উপরন্তু দারুণভাবে অবহেলিত থাকছে সেক্টরটি। আমাদের দরকার কৃষকের টিকে থাকার ব্যবস্থা করা, তাহলেই কৃষি টিকবে আর কৃষকও বাঁচবে।

মো. বশিরুল ইসলাম
জনসংযোগ কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত)
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
ড. মো. তাসদিকুর রহমান

আসুন সরকারের নির্দেশনা মানি

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঐক্যের বিকল্প কিছু নেই

বিভুরঞ্জন সরকার

আমরা কথা ও কাজে এক হব কবে?

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

করোনায় গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

করোনার জন্য প্রস্তুতি

Bhorerkagoj