স্টেডিয়াম পরিচিতি : হোম অব ক্রিকেট

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদন : মিরপুর স্টেডিয়ামকে বলা হয় হোম অব ক্রিকেট। অনেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মক্কাও বলে থাকেন এ স্টেডিয়ামকে। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত। স্টেডিয়ামটি মিরপুরের ৬নং সেক্টরে অবস্থিত। এটি বর্তমানে শুধু ক্রিকেট মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামটি স্থাপিত হয় ২০০৬ সালে। শুরুতে এটি মিরপুর স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত ছিল।

পরবর্তী সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার স্টেডিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে নাম রাখেন শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। নামকরণ ইতিহাস অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এর উপাধি শেরে বাংলা থেকে এ স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়।

এটি ১৯৮০ সালে ফুটবল মাঠ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। পরে এটিকে ক্রিকেট মাঠে রূপান্তরিত করা হয়।

২০০৭ সালে ২৫ মে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলে স্বাগতিক বাংলাদেশ। অন্যদিকে ২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে খেলে বাংলাদেশ। ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এটাই বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ম্যাচটিতে ৪৩ রানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। আর ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার উঠে বর্তমান ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফির হাতে।

২০১১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ^কাপে এই স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ৪টি এবং কোয়ার্টার ফাইনালের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় মিরপুরে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ছিল এই বিশ^কাপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ভেন্যু। বিশ^কাপ প্রতিযোগিতাকে মাথায় রেখে এই স্টেডিয়ামে অনেক নতুনত্বের কাজ করা হয়। যার মধ্যে ছিল একটি দানবীয় স্ক্রিন এবং একটি ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ড স্থাপনা, পুরাতন সাধারণ দৃশ্যপর্দাকে ইলেকট্রনিক পর্দা দ্বারা পরিবর্তন, উন্নত ফ্লাডলাইট লাগানো, ১৬ হাজার ইউএস ডলার খরচের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি হোভার-কভার ক্রয়, গ্যালারিতে প্লাস্টিক সিট বসানো, ২০০ জন গণমাধ্যম কর্মীর ধারণক্ষমতার একটি নতুন মিডিয়া কেন্দ্র তৈরি এবং নতুন ড্রেসিংরুম তৈরি করা হয়। মূল মাঠের সঙ্গে সংলগ্ন করে একটি নতুন ক্রিকেট একাডেমি তৈরি করা হয়েছে।

এ মাঠে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচে আফতাব আহমেদেএর ৫০ পেরনো ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ জয়ী হয়।

মিরপুরের মাঠটি বিশ^মানের সুযোগ-সুবিধা সমন্বয়ে তৈরি। এই স্টেডিয়ামটি উপমহাদেশের সেরা মাঠগুলোর একটি। উইকেট থেকে বাউন্ডারি পর্যন্ত ঢাল চমৎকার এবং সমান হয় ২৯ ইঞ্চির সমান ব্যবধানের দ্বারা।

২০০৯ সালে ফ্লাডলাইট লাগানোর পর থেকে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিবা-রাত্রি ক্রিকেট ম্যাচও আয়োজন করা সম্ভব হয়। ওয়ানডে আয়োজনে সবার আগে সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে শারজা ক্রিকেট গ্রাউন্ড। ১৯৯৬ সালের ১৪ এপ্রিল শারজার শততম ওয়ানডেতে খেলেছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সবচেয়ে কম সময়ে শততম ওয়ানডে আয়োজন করে শেরে বাংলা স্টেডিয়াম। অভিষেকের ১১ বছর ১ মাস ১০ দিনের মাথায় সেঞ্চুরি হয়েছে শেরে বাংলার। পেছনে পড়ছে শারজা (১২ বছর ৯ দিন)।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj