২০১৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিক : জাপানের অর্থনীতিতে বড় পতন

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ত্রৈমাসিক জিডিপি সংকোচনের শিকার হয়েছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতি জাপান। কর বৃদ্ধি ও ভয়াবহ টাইফুন জাপানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করায় প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হয়েছে দেশটির।

সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাস জাপানে আঘাত হানার আগেই গত বছরের শেষ দিকে দেশটির জিডিপি সংকুচিত হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ২০১৯ সালের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি ১ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে দেখা গেছে। গত বছর ভোক্তা করহার ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করে জাপান সরকার, যা গত বছরের অক্টোবর থেকে বাস্তবায়ন হয়েছে। এছাড়া টাইফুন হাগিবিসের আঘাতে দেশটিতে শতাধিক প্রাণহানি ঘটে এবং ব্যাপক বন্যার শিকার হয় জাপান। মূলত চতুর্থ প্রান্তিকে এ প্রতিক‚ল পরিস্থিতিরই প্রতিফলন ঘটতে দেখা গেছে। অর্থনীতিবিদরা সর্বশেষ প্রান্তিকে ১ শতাংশের কাছাকাছি সংকোচনের পূর্বাভাস করলেও এতটা দুর্বল পরিসংখ্যান আশা করেননি। নরিনচুকিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকেশি মিনামি বলেন, চতুর্থ প্রান্তিকের পরিসংখ্যান একেবারেই প্রত্যাশিত ছিল না।

একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে, অন্যদিকে প্রভাব প্রশমনে সরকারের পদক্ষেপ সত্ত্বেও কর বৃদ্ধির পর ভোক্তা আস্থা উল্লেখযোগ্য হারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। চার প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে চতুর্থ প্রান্তিকে ২০১৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর সবচেয়ে বড় সংকোচন দেখা গেছে। সে সময় জাপানের অর্থনীতি ১ দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হয়। ৫ প্রান্তিক পর ২০১৯ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে জাপানের বেসরকারি ব্যয়ে প্রথম পতন দেখা গেছে।

চতুর্থ প্রান্তিকে বেসরকারি ব্যয় কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। এদিকে নগদহীন পেমেন্ট ব্যবস্থার ফলে বিনিয়োগ শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও কারখানা ও সরঞ্জাম ব্যয় কমেছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বর্তমানে অর্থনীতিবিদরা জাপানের অর্থনীতির ওপর সম্প্রতি চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। এরই মধ্যে জাপানি কোম্পানিগুলোর ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রম ও পর্যটনের ওপর ভাইরাসের প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। মিনামি বলেন, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানের প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসার কেবল ‘শূন্য’ সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় বেসরকারি ব্যয় বাড়ার কথা থাকলেও আগামী মাসগুলোয় তা কতখানি পুনরুদ্ধার হবে, সেটা ভাইরাসের বিস্তারের ওপর নির্ভর করছে।

এছাড়া চীন থেকে যন্ত্রাংশের চালান বিলম্বিত হওয়ার কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন তৈরি হতে পারে, যা রপ্তানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj