স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি সময়ের দাবি

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ নামে পরিচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এই ভাইরাস দীর্ঘদিন অজ্ঞাত ছিল। চীনে অনেক মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ হয়ে করোনা ভাইরাস এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীরা এক অভিনব তথ্য দিয়েছেন- করোনা ভাইরাস দেহকোষের মধ্যে নীরব থেকে কোষ অভ্যন্তরের গঠন পরিবর্তন করে কোষকে অকার্যকর করে থাকে। করোনা ভাইরাস অকার্যকর করে দেয়ার নানা প্রস্তুতি চলছে। আমরা আশা করি বিজ্ঞানীরা অন্য রোগ সংক্রমণ মোকাবিলা করতে সম্মত হয়েছেন। সবচেয়ে আশ্বর্যের বিষয় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী বিশেষ লক্ষণ না বহন করে অন্য মানুষকে করোনা ভাইরাস সহজে ফুসফুসকে উপহার দিতে পারে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন মানুষের চলাচল, দেখা সাক্ষাৎ, মেলামেশা সীমিত করে দিলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সীমিত হতে বাধ্য। আধুনিক সমাজে তা কি সম্ভব? নারী-পুরুষের হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যে পথটি রচিত হয়েছে তা কি হারিয়ে যাবে ভয়ে? করোনা ভাইরাস খুব সহজে যেন অন্যদের সংক্রমণ না করতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। খুব গুরুত্ব পাচ্ছে লিকুইড বা সাধারণ সাবানে হাত ধোয়া। ক্ষারে জীবাণু মরে যায়। গরমে তাড়িয়ে বেড়ায় জীবাণু। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। মাস্ক পরে ঘরে বাইরে চলাফেরার ব্যাপারে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

একদল ডাক্তার স্বেচ্ছাসেবী কর্মীও বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত মানুষদের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি করতে বলা হয়েছে। তারা যেন সহজে আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করে আলাদা করতে পারে। সাধারণ মানুষদের সঙ্গে আক্রান্ত রোগীদের মিশিয়ে দেয়া চলবে না। মাস্ক বায়ুবাহিত রোগ করোনা ভাইরাসকে কি আটকাতে পারবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। আঠারো শতকে প্রথম সার্জিক্যাল মাস্কের উদ্ভব-পরবর্তী ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মাস্ক সবাই পরতে চায় না। মাস্ক বেচাকেনা নিয়ে চলছে পৃথিবীজুড়ে ব্যবসা। হাঁচি, কাশি থেকে সংক্রমণ কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে মাস্ক। বায়ুকে ফিল্টার করার মতো মাস্ক কম তৈরি করছে।

হাতে লেগে থাকা জীবাণু দিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ২৩ বার মুখে স্পর্শ করে এটা উদ্বেগের। আজব দুনিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে অজস্র জীবাণু। নানা কেমিক্যাল থেকে বায়ুদূষণ হচ্ছে। প্রাণী বয়ে বেড়াচ্ছে নানা ক্ষতিকর জীবাণু। মানুষের দেহ অভ্যন্তরে মজুত ও বৃদ্ধি পাওয়া এই জীবাণুরা বিপদ ডেকে আনছে। দেহ অভ্যন্তরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারছে না আগের মতো, বিকল হচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত? হাত ধোয়া সাবান, মাস্ক এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়নি। বিশেষায়িত হাসপাতালটিতে কর্মরত চিকিৎসকরা তাদের মেধা শ্রম ও ভালোবাসায় শুশ্রƒষার কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জনসমাগম বেশি হয় এমন সব জায়গা এড়িয়ে চলা অসম্ভব। বেঁচে থাকা জরুরি বাঙালির আবেগ ও ভালোবাসা সবকিছু জয় করতে চায়। পারেও। আমরা আমাদের ভালোবাসা দিয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করতে চাই। সবাই ভালো ও সুস্থ থাকুন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু শহর সিল করে দেয়া হয়েছে। ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট উৎপাদনে সরকারি সংস্থাসহ গণস্বাস্থ্য কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী কোয়ারেন্টাইন স্থানে সেবা প্রদান করছে।

কিছু বিষয়ে এখন গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার বিষয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। সব দক্ষ প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি সময়ের দাবি মাত্র। চীনে সচেতনতার কারণে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে এসেছে। ইতালি এখনো ঝুঁকির মুখে। আমাদের দেশে সচেতনতার প্রয়োজন। চিকিৎসকদের বিশেষ পোশাক পর্যাপ্ত সরবরাহ রাখতে হবে। এই সুযোগে কাঁচামালের দাম আকাশচুম্বী অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। নজরদারি ও সচেতনতা এই দুঃসময় মোকাবিলায় সহায়ক শক্তি হবে- এই-ই প্রত্যাশা।

সাইফুজ্জামান
ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj