আইসোলেশনে সাকিব : করোনা সতর্কে হোটেল রুমে অবস্থান

সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। মরণঘাতী এ ভাইরাসে আবাল বৃদ্ধ বনিতা কেউ রেহাই পাচ্ছে না। তাই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে একটি হোটেলে স্বেচ্ছা আইসোলেশনে আছেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে গেছেন তিনি। কিন্তু সেখানে পৌঁছে সাকিব ঝুঁকি নিতে চাননি। তাই এখনো পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি।

করোনা সতর্কতার কারণে হোটেল রুমে নিজেকে আইসোলেশনে রেখেছেন তিনি। বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় শনিবার এসব তথ্য জানান। এছাড়া দেশের মানুষকে করোনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুক পেজে সাকিব বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাসকে মহামারি বলে আখ্যায়িত করেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আপনারা এরই মধ্যে জেনেছেন, আমাদের দেশে কয়েকজন করোনা ভাইরাসের রোগী পাওয়া গেছে। আমাদের এখনই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সতর্কতাই পারে আমাদের দেশকে আর আমাদের সুস্থ রাখতে।

তিনি বলেন, ‘কিছু সহজ পদ্ধতি মেনে চললে আমরা এ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারব। আমাদের দেশকেও মুক্ত রাখতে পারব। যেমন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।

হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় সঠিক শিষ্টাচার মেনে চলা। বিদেশফেরত যদি কেউ থাকে তবে তার নিজেকে ঘরে রাখা এবং যেন ঘরের বাইরে না যান সেটা খেয়াল রাখতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে, আত্মীয়স্বজন বা বাইরের মানুষ আপনার সঙ্গে এসে যেন দেখা করতে না পারে। ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে যা খুবই জরুরি।’

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও আইসোলেশনে থাকায় এখনো পরিবারের সঙ্গে দেখা হয়নি সাকিবের। করোনা সতর্কতার কারণে নিজেকে দূরে রেখেছেন। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, আমার নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। আমি মাত্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে পৌঁছলাম। যদিও প্লেনে কিছুটা ভয়ে ছিলাম। তবু চেষ্টা করেছি কীভাবে নিজেকে পরিষ্কার রাখা যায় এবং জীবাণুমুক্ত রাখা যায়। এরপর যখন আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসে নামলাম আমি সোজা একটি হোটেলের রুমে উঠেছি।

আমি হোটেলের লোকজনকে অবগত করেছি, আমি এখানে থাকব কিছুদিন এবং আমি যেহেতু প্লেনে করে এসেছি আমার একটু হলেও ঝুঁকি আছে, এজন্য আমি নিজেকে আইসোলেটেড করে রেখেছি।

যে কারণে আমি আমার বাচ্চার সঙ্গেও দেখা করিনি। এখানে এসেও বাচ্চার সঙ্গে দেখা না করা অবশ্যই আমার জন্য কষ্টদায়ক, তারপরও আমার মনে হয় এই সামান্য ছাড় দিতে পারলে আমরা অনেকদূর এগোতে পারব, বলেন তিনি।

তারকা এ ক্রিকেটার বলেন, তারপরও আমার কাছে মনে হয়, এই সামান্য ত্যাগ করতে পারলে অনেক দূর এগোতে পারব। সো, এ কারণেই আমাদের দেশে যারা বিদেশ থেকে এসেছেন তাদের সবারই ছুটি অনেক কম থাকে। তারা চায়, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে, ঘোরাফেরা করতে, আড্ডা দিতে কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে একত্রিত হতে।

যেহেতু আমাদের সময়টা অনুক‚লে না, আমি সবাইকে রিকোয়েস্ট করব, এই নিয়মগুলো যেন সবাই মেনে চলেন।

কারণ আমাদের এই সামান্য স্যাক্রিফাইসটুকু পারে আমাদের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে, সুস্থ রাখতে এবং আমাদের নিজেদেরও সুস্থ রাখতে। আশা করি, সবাই আমার এই কথাগুলো শুনবেন এবং কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার, স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছে, এগুলো সম্পর্কেও অবগত হবেন এবং সেভাবে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবেন।

তবে, মানুষকে আতঙ্কিত না হতে অনুরোধ করেছেন সাকিব আল হাসান। তিনি আরো বলেন, ‘আর একটা কথা অবশ্যই বলতে চাই, কেউ আতঙ্কিত হবেন না।

আমার মনে হয় না এটা কোনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারবে। আমি খবরে দেখেছি, অনেকে ৩, ৪, ৫ বা ৬ মাস পর্যন্তও খাবার সংগ্রহ করছেন। আমার ধারণা, খাবারের সংকট কখনোই হবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা কেউ না খেয়ে মারা যাব না।

তাই আমরা আতঙ্কিত না হই। আমাদের সঠিক সিদ্ধান্তই পারে আমাদের এর থেকে রক্ষা করতে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সেটা সম্ভব। আশা করি, সবাই ভালো থাকবেন এবং প্রয়োজন ছাড়া কেউ ভ্রমণ বা বাড়ির বাইরে বের হবেন না।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj