ঘরে বসে মুজিববর্ষ পালন করতে পারি যেভাবে

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২০

সেই কালজয়ী মহানায়কের মহাজন্মদিন ও জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য গোটা জাতি যখন পুরো মাত্রায় প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিল তখনি মরণ ব্যাধি হয়ে গোটা বিশে^ আঘাত হেনেছে কোভিড ভাইরাস, যা করোনা নামে অধিক পরিচিতি পেয়েছে। করোনা এখন গোটা বিশে^র আতঙ্ক। ১৭ মার্চ যখন এই লেখা লিখছি ততক্ষণে সারা দুনিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সাড়ে ৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় গোটা দুনিয়ায় আকাশ পথের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীসহ কয়েকটি দেশের কয়েকজন মন্ত্রী, কয়েকজন সংসদ সদস্য, কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়, কয়েকজন তারকা অভিনেতা এবং অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি লোক, নারী, পুরুষ, তরুণ, তরুণী, শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, আইসোলেশনে যেতে বাধ্য হয়েছে।

১৭ মার্চ থেকে মুজিববর্ষ পালন শুরু হয়েছে। তবে বিগত বছরগুলোয় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের সময় যে রকম দৃশ্য ছিল, এবার ছিল তার ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী, দিনাজপুরের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের জন্য আমি সকাল সাড়ে ৭টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে দেখি তেমন ভিড় নেই। ৮-১০ জন করে লোক আসছেন এবং বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে চলে যাচ্ছেন। আমি ইতিহাস সম্মিলনী ও বিএসডিএর ব্যানারে দুবার শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করি। শ্রদ্ধাঞ্জলির সময় ওই দুটি সংগঠনের পক্ষে ১০-১২ জন করে উপস্থিত ছিলাম। বিগত বছরগুলোয় এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সময় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। হাজারো লোকের উপস্থিতি অনুষ্ঠানমালায় প্রাণচাঞ্চল্য এনেছে। এক-দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর ভিড় ঠেলে ঠেলে সংগঠনগুলো শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে পেরেছে। অথচ করোনা মোকাবিলা করার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজমান আতঙ্কে এবার পরিস্থিতি বদলে গেছে।

এই মুহূর্তে করোনা মোকাবিলায় যেসব পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে তাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষের ঘরে বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। অখণ্ড অবসর এখন। অখণ্ড এই অবসরে ঘরে বসে থেকে কী করব?

যদি চেষ্টা করা যায় তাহলে মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে এই অবসর সময়ে এই কাজগুলো করা যেতে পারে- ১. ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজেদের পড়াগুলো ঠিকমতো পড়তে পারেন। ২. ছাত্রছাত্রীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং আমার দেখা নয়াচীন বই তিনটি পড়তে পারেন। ৩. ছাত্রছাত্রীসহ সব মানুষ বঙ্গবন্ধুর ওপর বিভিন্ন লেখকের লেখা বই পড়ে তার জীবন, দর্শন ও আদর্শ জানতে পারেন এবং সে অনুযায়ী নিজের জীবন চরিত্র গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারেন। ৪. বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাঙালির মুক্তির লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাই বাড়িতে বসে বিভিন্ন লেখকের লেখা মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের ইতিহাসভিত্তিক বই পড়তে পারেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সবাই যদি পড়ালেখার মধ্যে থাকি, জ্ঞানার্জনের ভেতর থাকি, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সম্পর্কে জানি অথবা জানার চেষ্টা করি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যারা দেখেননি তারা যদি সে সম্পর্কে জানতে পারেন, বঙ্গবন্ধুকে জানতে পারেন তাহলেই প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি।

আজহারুল আজাদ জুয়েল
পাটুয়াপাড়া, দিনাজপুর।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj