চীনে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়াল

বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

করোনা আতঙ্ক : গুজব ও জবরদস্তি পরিহারের আহ্বান >> প্রমোদতরী থেকে মুক্তি মিলল ‘সুস্থ’ ৫০০ যাত্রীর >>

কাগজ ডেস্ক : চীনে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার নতুন করে ১৩৬ জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার চার। এ ছাড়া নতুন করে এক হাজার ৭৪৯ জনের শরীরে এ ভাইরাস ধরা পড়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল বুধবার দেশটির স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরা।

খবরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার মারা যাওয়া ১৩৬ জনের মধ্যে ১৩২ জনই করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। আর নতুন করে শনাক্ত হওয়া এক হাজার ৭৪৯ জনের মধ্যে এক হাজার ৬৯৩ জনই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। একপর্যায়ে এ ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮টি দেশে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস।

ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নতুন কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে হুবেই কর্তৃপক্ষ। প্রদেশটির রাস্তায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যক্তিগত যান চলাচল। চীনে ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাসের উপসর্গ গোপন করাকে ফৌজদারি অরপাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একইসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করলে তার মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে গতকাল বুধবার হংকংয়ের প্রিন্সেস মার্গারেট হাসপাতালে ৭০ বছর বয়সী এক করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ওই ব্যক্তি হংকংয়ের কাওয়াই চুং এলাকার একটি বাড়িতে একাই বাস করতেন। ২ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ হওয়ার ১০ দিন পর তাকে প্রিন্সেস মার্গারেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করা হয়, তখনই তার অবস্থা সংকটজনক ছিল।

হংকংয়ে নতুন করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর প্রথম ঘটনা ঘটে গত ৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান, তিনিও ডায়াবিটিসের রোগী ছিলেন। চীন শাসিত হংকংয়ে এ পর্যন্ত ৬২ জন নতুন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হলো।

প্রমোদতরী থেকে মুক্তি মিলল ‘সুস্থ’ ৫০০ যাত্রীর : নতুন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের প্রায় ৫০০ আরোহী জাহাজ থেকে গতকাল বুধবার তীরে নামা শুরু করেছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, ডায়মন্ড প্রিন্সেসের আরোহীদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জাহাজাটিকে পৃথক করে পর্যবেক্ষণে (কোয়ারেন্টাইনে) রাখা হয়েছিল। গতকাল বুধবার প্রমোদতরীটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ও জাপানি কর্মকর্তারা ‘অল ক্লিয়ার’ ছাড়পত্র পাওয়া যাত্রীদের জাহাজ ছেড়ে নেমে আসার অনুমতি দেয়। জাহাজটির প্রায় ৫০০ আরোহী, যাদের শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি এবং অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ডায়মন্ড প্রিন্সেস থেকে হংকংয়ে নেমে যাওয়া ৮০ বছর বয়সী এক যাত্রী করোনা ভাইসরাটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রমোদতরীটিকে ইয়োকোহামা বন্দরে পৃথক অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তারপর থেকে জাহাজটির প্রায় তিন হাজার ৭০০ যাত্রীর মধ্যে অন্তত ৫৪২ জন ভাইরাসটির সংক্রমণে আক্রান্ত হন। সংখ্যার দিক থেকে চীনের মূলভূখণ্ডের বাইরে এই জাহাজটিতেই সবচেয়ে বেশি লোক নতুন করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন।

এদিকে করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশে গুজব ও জবরদস্তি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। গতকাল রাজধানীর মহাখালীর আইইডিসিআরের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশ-বিদেশের বরাত দিয়ে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক গণমাধ্যমের উদ্বেগজনক প্রসার ঘটছে। এ ধরনের গুজবের পরিণতিতে সাতক্ষীরাতে একজন সন্দেহজনক রোগীর মায়ের দুঃখজনক মৃত্যু ঘটেছে। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো স্থানে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে এর ফলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং চীন ও সিঙ্গাপুর ফেরত কোনো কোনো যাত্রীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, গুজবে প্রভাবিত হয়ে কোনো কোনো স্থানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চীন ও সিঙ্গাপুর ফেরত যাত্রীদের প্রতি জবরদস্তি আচরণ করছে। গুজব এবং জবরদস্তি দুটোই সম্ভাব্য রোগী শনাক্তে বাধার সৃষ্টি করবে এবং সন্দেহজনক রোগীরা তথ্য ও অবস্থান গোপন করবে। বাংলাদেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj