সাবের হোসেন চৌধুরী : দেশে সব ধরনের মানসম্পন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে

সোমবার, ৬ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : এইচ আর গ্রুপের চেয়ারম্যান, ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সব শাখাতেই প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত। পরিবহন খাতেও অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যত বাড়ছে, মানুষ তত আধুনিক যানবাহন ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছে। এক কথায় মানসম্পন্ন সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।

তিনি বলেন, নতুন বছরকে আমরা একটি বিশেষ বছর হিসেবে দেখছি। আমাদের লুব অয়েলের ব্যবসাকে এগ্রেসিভলি আরো ডেভেলপ করতে চাই। বর্তমান লাইনআপ আরো বাড়াতে সবার সহযোগিতা দরকার।

গতকাল রবিবার রাজধানীর কাকরাইলে এইচ আর ভবনে নবনির্মিত মিলনায়তনে লিকুই মলি লুব্রিকেন্টের ‘বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন-২০২০’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাইনা চৌধুরী, হামদান হোসেন চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক অরুণ কুমার সরকার, এসবি জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লিকুই মলি লুব্রিকেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক নিজামউদ্দিন। দিনব্যাপী আয়োজিত এ সম্মেলনে লুব্রিকেন্টস এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ২০১৯ সালের তাদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনা করেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিনিধিদের সফলতার ওপর ব্যবসার সফলতা নির্ভর করে। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের বিভিন্ন চাহিদাসহ নানা ধরনের তথ্য দিয়ে প্রতিনিধিরা যদি আমাদের সহায়তা করেন তবে আমরা পণ্যের মান ও সেবা আরো উন্নত করতে সক্ষম হবো। যখন আমরা কোনো ব্যবসা শুরু করি তখন শুধু একটি পরিসংখ্যান হিসেবে থাকতে চাই না। আমরা মার্কেট বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেই।

সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন এ অডিটোরিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে এইচআর অডিটোরিয়াম। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতাদের নামেই এ নামকরণ করা হয়েছে। লুব্রিকেন্ট ব্যবসাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা লুব্রিকেন্টের ডিলার সম্মেলনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এইচআর অডিটোরিয়ামের যাত্রা শুরু করেছি।

তিনি বলেন, আমি ডিলার হিসেবে কাউকে দেখতে চাই না। আমি মনে করি, যে কোনো ব্যবসায় সফলতার জন্য টিমওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সব সময় বলি, যারা আমাদের সঙ্গে কাজ করেন তারা আমাদের পার্টনার (সহযোগী)।

তিনি বলেন, আমার বাবা যখন প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন, তখন থেকেই বলতেন, আমাদের এ ব্যবসা শুধু আমাদের দিয়েই

সফলতা আসে না। যাদের নিয়ে আমরা কাজ করি, তাদের উপরেই এর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আমাদের সহযোগীদের ব্যবসা কিভাবে সফল হবে- এটাকেই আমরা প্রথমে গুরুত্ব দেই। কারণ আপনারা সফল হলে আমাদের ব্যবসা সফল হবে এবং আমরাও সফলভাবে এগিয়ে যাব।

ডিলারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আমাদের সহায়তা করতে পারেন। যেমন, আমাদের প্রতিযোগীরা কী ধরনের কাজ করছেন। তারা নতুন নতুন পণ্য বাজারে আনছে কিনা, তাদের পণ্যের মান বাজারে কিভাবে প্রভাব ফেলছে। এ সময় তিনি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বাজার খুব প্রাইজ সেনসিটিভ। দামের ওপরে অনেক সময় পণ্যের কাটতি নির্ভর করে। তবে আমি মনে করি, মানসম্মত পণ্য বেশি দামে কিনলে তার সুফল অবশ্যই পাওয়া যায়। এ বিষয়টি মানুষকে আপনারাই বোঝাতে সক্ষম হবেন।

তিনি বলেন, আমরা সব সময় নতুন নতুন পণ্য ভোক্তাদের সামনে আনার চেষ্টা করি। কারণ আমাদের পণ্য যত সম্প্রসারিত হবে, আমাদের যত বেশি পণ্য থাকবে, তত বেশি গ্রাহকের কাছে আপনারা যেতে পারবেন। এতে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা আমাদের প্রতিনিধিদের ব্যবসাও আরো প্রসার লাভ করবে। নতুন নতুন পণ্য বাজারে আনার আগে অবশ্যই আপনাদের মতামত জানাব, আপনাদের পরামর্শ নেব। মনে রাখতে হবে ব্যবসা হচ্ছে ভলিউমের ওপর নির্ভরশীল। কারণ আমি যত বেশি টার্নওভার করতে পারি তত বেশি আমার ব্যবসার পাশাপাশি আপনাদের ব্যবসাও বাড়বে। এতে করে সবারই খরচ কমে যায়।

তিনি বলেন, মাহিন্দ্র এবং সওরজ এখন বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ দুটি ব্র্যান্ড। আমাদের শিপিং ব্যবসাতেও একই অবস্থা। দেশে আমদানি-রপ্তানির ৩৫ শতাংশই আমাদের শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে হয়। সুতরাং লুব্রিকেন্ট বা লুবঅয়েলের ক্ষেত্রেও আমাদের মার্কেট শেয়ার বাড়ানোর সুযোগ আছে। এ সুযোগটা আমরা কিভাবে নিতে পারি তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। এর সফলতা অনেকাংশে আমাদের ব্যবসা সহযোগীদের ওপর নির্ভর করছে।

তিনি বলেন, আজকের সম্মেলনে আমরা যে টার্গেট ঠিক করব, আশা রাখি আপনারা সে টার্গেট পূরণে সফল হবেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যবসায়ী সহযোগী যদি বলতে পারেন, কলকারখানার (ইন্ডাস্ট্রিয়াল) কোনো চাহিদা আছে, আমরা সেখানে নতুন কোনো পণ্য নিয়ে আসার চেষ্টা করব। এ চিন্তাগুলো সমন্বিতভাবে করতে হবে। আমাদের পণ্যগুলোর মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে না বলে আমার দৃঢ় বিশ^াস।

তিনি বলেন, আমরা পণ্যগুলো জাহাজে করে আমদানি করি। এ ক্ষেত্রে পরিবহনেই একটা বড় অংশ ব্যয় হয়। তাই যত বেশি পণ্য আনা যাবে, ততই পরিবহন খরচ কম হবে। এতে করে পণ্যের দাম নির্ধারণে আরেকটু সহনীয় হওয়া সম্ভব হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj