নৌকমান্ডো এ ডব্লিউ চৌধুরী : অপারেশন জ্যাকপট ছিল মুক্তিযুদ্ধের মৃত্যুঞ্জয়ী শক্তি

শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রাম অফিস : ‘মুক্তিযুদ্ধকালে চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে অপারেশন জ্যাকপটের সফল অভিযান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করে আর এ আক্রমণ বিশ^ব্যাপী গণমাধ্যমে ফলাওভাবে প্রচারিত হয়। সেইসঙ্গে তা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে তরান্বিত করতে মৃত্যুঞ্জয়ী শক্তির প্রেরণা জুগিয়েছিল।’

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর সফল অপারেশনে নেতৃত্বদানকারী নৌকমান্ডো আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী (এ ডব্লিউ চৌধুরী) বীর উত্তম একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোর স্মরণ করতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন। চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় বিজয় মঞ্চে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ ডব্লিউ চৌধুরী বলেন, সেদিন আমরা নৌকমান্ডো বাহিনী নিয়ে চট্টগ্রামে প্রবেশ করি এবং মৌলভি সৈয়দ আহমদের বাহিনীর সহযোগিতায় কর্ণফুলীর নদীর দক্ষিণে যাই। আমরা তখন নির্ধারিত অপারেশনের ছকে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করি। আমাদের এই সফল অপারেশনে যারা ওইদিন সহযোগী ছিলেন, তাদের অনেকেই আজ নেই। তবে তারা স্মৃতিতে স্মরণে বরণে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সারা বাংলাদেশে নৌপথে পাকিস্তানি জাহাজগুলোতে একযোগে হামলা চালিয়েছিল অসম সাহসী নৌকমান্ডোদের বিভিন্ন টিম। মুজিবনগর সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই অপারেশনের নাম দেয়া হযেছিল ‘অপারেশন জ্যাকপট’।

বিজয় মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন রাশেদের সভাপতিত্বে ও বাবু পান্টু লাল সাহার সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গবেষক-লেখক-মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, খোরশেদ আলম (বীর প্রতীক-নৌকমান্ডো), বশিরউল্লাহ মজুমদার (নৌকমান্ডো), মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব মোহাম্মদ ইউনুছ, সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদ ও নাজিমুদ্দীন শ্যামল প্রমুখ। এদিকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় মহিলা সমাবেশ।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj