নীরব কর্তৃপক্ষ : চট্টগ্রামে বিজেসির পুকুর ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ

শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রাম অফিস : নগরীর মাঝিরঘাটে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের (বিজেসি) একটি পুকুর ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুকুর পাড়ের শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে গাছ কেটে পুকুর ভারাট করলেও নীরব রয়েছে পাটকল করপোরেশন। বিষয়টি সম্পর্কে জানে না পরিবেশ অধিদপ্তরও।

এলাকাবাসীরা জানায়, র‌্যালি প্রেস হাউস পুকুরটি পাট করপোরেশন থেকে লিজ নিয়েছেন সিরাজুল আসলাম মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী। পুকুর পাড়ে অনেকগুলো গাছও ছিল।

এ ছাড়া পুকুরটির চারপাশে ২০টি পরিবারের বসবাস। পুকুর ভরাট করে সেখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে কর্ণফুলী নদীর পাশে ঘাট বসাতে চান খলিলুর রহমান নাহিদ নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী।

ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নাহিদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভাগিনা মাসুদ ও শহিদকে নিয়ে বাংলাদেশ পাট করপোরেশনের পুকুরটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করছেন। পাট করপোরেশনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা তার এ কাজে ম্যানেজ হওয়ায় সংস্থাটি বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু নাহিদের রাজনৈতিক দাপট থাকায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।

পুকুরের ইজারাদার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাকে কিছু না জানিয়েই নাহিদের লোকজন গাছ কেটে পুকুর ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করছেন। তিনি বিষয়টি পাট করপোরেশনকে জানালে তারা নাহিদকে চিনে না জানিয়ে তাকে লিখিত অভিযোগ করতে বলেছে। পরে লিখিত অভিযোগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচলের জন্য পুকুরের একাংশ ভরাট করে রাস্তাটি তৈরি করা হচ্ছে। রাস্তার জন্য ইতোমধ্যে অনেকগুলো গাছকাটা হয়েছে। রাস্তাটি হলে ওই আবাসিক এলাকার বাসিন্দরা নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়বেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাহিদের মোবাইল ফোনে দুদিন ধরে চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক মো. আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, গাছকাটার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দেখবে। তবে কোনো জায়গায় পুকুর ভরাট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বাংলাদেশ পাট করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মো. খাইরুল আলম বলেন, করপোরেশনের পুকুরটি ইজারা দেয়া হয়েছে তবে এটি ভরাট করা ও গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণের অনুমতি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj