আমরা একসঙ্গে হেঁটেছিলাম

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

সৈয়দ নূরুল আলম

দিলরুবা অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেয় ‘ষাটোর্র্ধ্ব একজন আধুনিকমনষ্ক মানুষের একাকিত্ব ঘোচাতে একজন সার্বক্ষণিক তরুণীর প্রয়োজন। বেতন আলোচনা সাপেক্ষে। আছেন এমন কেউ? থাকলে ইনবক্সে ইচ্ছের কথা জানান।’

মিমি ভাবে ও কি কম্পিউটার? কম্পিউটারের মতো কে যেন ওকে ওপেন করে। নক করে। চ্যাট করে। লাইক দেয়। কমেন্ট করে। লোকটা কে তাও বুঝতে পারে না। এটা ঘুমের মধ্যে, না আধো ঘুমের মধ্যে, সেটাও ঠিকমতো বলতে পারে না। এই টানাপড়েনে মিমির দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজের ক্ষতি হয়। কাজ করতে করতে হঠাৎ ওর কাজ থেমে যায়। খাচ্ছে, খাওয়া রেখে ভাবতে থাকে। পড়ছে, পড়া রেখে, বই বন্ধ করে ভাবতে থাকে। তাহলে মিমি কি কম্পিউটার?

‘আজ তোমার ক্লাস আছে?’

মিমি কোনো উত্তর করে না। ভার্সিটিতে যাবে বলেই সেজেগুজে নাস্তার টেবিলে বসেছে। সেটা দেখেও আদিল সাহেব প্রশ্নটা ছুড়েছেন। প্রশ্নের জন্য শুধু প্রশ্ন। এ কারণে মিমি উত্তর করেনি।

‘আজ কয়টা ক্লাস? কখন ফিরবে?’

‘দুটো ক্লাস। দশটায় ও আড়াইটায়।’

‘দুপুরের খাবার নিয়ে যেও। বাইরের কিছু খেও না।’

‘আপনি দুপুরে খেয়ে নিয়েন। ওদিনের মতো না খেয়ে বসে থাকবেন না। রহিমা খালা আসবে। এসে ফ্রিজের খাবার গরম করে দেবে।’

আদিল সাহেব কোনো কথা বলেন না। প্রতিদিনের মতো ডাইনিং টেবিলে বসে মিমির খাওয়া দেখেন। আদিল সাহেব বলতে চেয়েছিলেন, মিমি, দুপুরে চলে এসো। দুজন একসঙ্গে লাঞ্চ করব। কিন্তু বলা হয় না। মিমি নাস্তা কোনো রকম নাকেমুখে গুঁজে, দরদর করে দোতলা থেকে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে যায়।

মিমি অনেক দিন আদিল সাহেবকে বলেছে। আপনি সকালে আমার সাথে নাস্তা করবেন। আমি ভার্সিটিতে গেলে আপনি কী খান, না খান আমি দেখতে পাই?

কিন্তু আদিল সাহেব এত সকালে কিছু খেতে চান না। তবে মিমি যত সময় নিয়ে খায়, উনি খাবার টেবিলে বসে থাকেন। মিমির খাওয়া দেখেন। এটা ওটা এগিয়ে দেন। যেদিন মিমির হাতে সময় থাকে। মিমি চা খায়। আদিল সাহেবও মিমির সাথে চা খান। আদিল সাহেব মিমির হাতের চা খুব পছন্দ করেন। উনি সারা দিনে আর চা খান না। খান বিকালে। মিমি ফিরে এলে।

মিমি চলে যায়। আদিল সাহেব দরজা বন্ধ করে বারান্দায় এসে বসেন। বারান্দায় দুটো চেয়ার রাখা আছে। একটা নিজের। অন্যটা মিমির। বারান্দাটা বেশ বড়। দক্ষিণমুখী। এখানে বসলে, দক্ষিণা বাতাস পুরোটাই পাওয়া যায়। বারান্দায় মিমি পছন্দের কিছু পাতাবাহারি গাছ রেখেছে। কোনো কোনো দিন অনেক রাত পর্যন্ত ওরা দুজনে এখানে বসে গল্প করে। বিকালে মিমি আদিল সাহেবকে গল্পের বই পড়ে শোনায়। নিজে পড়ার চেয়ে মিমির পড়া শুনতে আদিল সাহেবের ভালো লাগে। মনে হয় মিমি পড়ছে না। গল্প বলছে। এতে করে মিমিরও বেশ কিছু গল্প-উপন্যাস পড়া হয়েছে।

দৈনিক পত্রিকাগুলো অবশ্য আদিল সাহেব নিজে নিজে পড়েন। মিমি বের হয়ে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটি পেপার নিয়ে বসেন। পড়ার নামে এটা ওটা দেখেন। সময় কাটান। কখনো শুধু হেড লাইন দেখেন।

আজ কেন যেন আদিল সাহেবের মনে হলো বারান্দায় বসে এককাপ চা খাওয়া যায়। চা বানানোর অভ্যাস আদিল সাহেবের আছে। মিমি আসার আগে নিজের চা নিজেই করে খেতেন। মিমি আসার পর আর চা বানাতে ইচ্ছে করে না। কিছু কিছু সময় থাকে প্রিয়জনের হাতের তৈরি জিনিস খেতে অন্য রকম লাগে।

আদিল সাহেব বারান্দা থেকে উঠে রান্নাঘরে যান। চায়ের সরঞ্জাম বের করেন। রান্নাঘরে আদিল সাহেব খুব একটা ঢোকেন না। আজ ঢুকে মনটা ভরে যায়। রান্নাঘরটা কী সুন্দর করে মিমি সাজিয়ে রেখেছে। আসলে গত এক বছরে সারা বাসায় মিমির সৌন্দর্যবোধের ছোঁয়া আছে। এককাপ চা নিয়ে আদিল সাহেব আগের জায়গায় ফিরে আসেন।

আগামী জুনে আদিল সাহেবের ষাট বছর পূর্ণ হবে। আদিল সাহেব চেয়েছিলেন নিকটাত্মীয়স্বজন ডেকে ছোটখাটো একটা অনুষ্ঠান করবেন। কিন্তু মিমি বলেছে অনুষ্ঠান হবে। তবে সেখানে আমরা দুজন ছাড়া আর কেউ থাকবে না। আদিল সাহেব মিমির কথা ফেলেন না।

এ সময় দরজায় কলিংবেল বেজে ওঠে। রহিমা খালা এলো বুঝি। কিন্তু দরজা খুলে আদিল সাহেব অবাক হন।

‘তুমি?’

‘গতকাল ভার্সিটিতে কী গণ্ডগোল হয়েছে। আজ সব ক্লাস সাসপেন্ড।’

আদিল সাহেবের চোখমুখে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়।

মিমি কাঁধের ব্যাগ টেবিলের ওপর রাখতে রাখতে বলে, রহিমা খালা এসেছিল?

‘এলো না তো। আসার সময় কখন চলে গেছে।’

‘ঠিক আছে। ভাবতে হবে না। আমি তো চলে এসেছি। কিন্তু আমি না এলে কী হতো?’

‘রাজুর মার বয়স হয়েছে। বেচারা কী আর করবে। গায়ে কুলায় না। তবু আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে, ছেড়ে যায় না।’

‘আমি সে কথা বলছি না। আমি না এলে আপনি তো শুধু পানি আর বাতাস খেয়ে দুপুর কাটিয়ে দিতেন।’

‘তা কেন। এইমাত্র আমি তো চা বানিয়ে খেয়েছি।’

‘আপনি চা বানাতে পারেন! কোনোদিন তো বলেননি!’

‘এটা কি বলার জিনিস!’

‘আপনার জন্য আরেক কাপ চা করি। আমিও খাবো।’

‘করো।’

‘ইন্সুলিন নিয়েছিলেন?’

‘আমি তো নাস্তা করিনি। করার আগে নেব।’

‘আমি দিয়ে দেই।’

‘সকালে তো আমি নিজেই নেই।’

‘আমি সামনে থাকতে, নিজে নেবেন কেন?’

আদিল সাহেবকে সকাল-বিকাল দুবেলা ইন্সুলিন নিতে হয়।

সকালে আদিল সাহেব নিজেই নেন। রাতে মিমি দিয়ে দেয়।

নিজের শরীরে, নিজে সুই ঢোকাতে একটু ভয় ভয় করে। কিন্তু সেটা আদিল সাহেব মিমিকে বলেন না।

বললে মিমির আর সকালের ক্লাস ধরা হবে না।

মিমি তুখোড় বিতর্ক করতে পারত। আন্তঃহল প্রতিযোগিতায় রোকেয়া হলের হয়ে পুরস্কার জিতেছে। ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গতবার বাড়ি গিয়ে সেই মিমি যখন বাবা-মাকে বলে, আমি আদিল সাহেবের সাথে গেট টুগেদার করতে চাই। তখন বাবা সিরাজউদ্দিন এবং মা আলেয়া বেগম খুব অসহায়বোধ করেন। তাঁরা ভালো করে জানেন মিমির সাথে তর্কে জেতা যাবে না।

‘আমি চাইলে তোমাদের না জানিয়ে কাজটা করতে পারতাম। কিন্তু তোমাদের না জানিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো কিছু করিনি আর করবও না।’

বাবা রাগে-ক্ষোভে গজরাতে থাকেন। মা কেঁদে-কেটে একসার।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অনেকগুলো মেয়ের ছবি ঢুকে পড়ে দিলরুবার মেসেঞ্জারে। এত উৎসাহী কর্মযোগ্য মেয়েদের সংখ্যা দেখে দিলরুবার ভালো লাগে। ও ভাবে এভাবে যার যার জায়গা থেকে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লে, একচল্লিশ সালের উন্নত দেশের স্ট্যাম্প পাওয়া ঠেকায় কে।

দিলরুবা মেসেঞ্জারে প্রার্থীর সংখ্যা আর বাড়তে দেয় না। চব্বিশ ঘণ্টার মাথায় পোস্টটা মুছে ফেলে। এবং উইকএন্ডডেতে মেসেঞ্জারের ইনবক্স খুলে বসে। অনেক বাছবিচার করে, প্রাথমিক বাছাইয়ে পাঁচজন মেয়েকে রাখে। পরে তাদের অনলাইলে ইন্টারভিউ নেয়। একটা মেয়ের কথাবার্তা, ব্যক্তিত্ব, আপডেট চিন্তা, দিলরুবার ভালো লাগে।

‘প্লিজ বলো। তোমার বেতন কত দিতে হবে?’

‘আমার কেন সে নেই। আমি আপনার বাবাকে কোম্পানি দিতে রাজি হয়েছি শুধু উনার অসহায়ত্বের কথা ভেবে। সম্মানী দ্যাট’স নট ম্যাটার। তাছাড়া এখানে আমার ভালো লাগার একটা বিষয় আছে। যে কাজ আমার ভালো লাগে তা আমি মন দিয়ে করি। আপনি হয়তো আমার বায়োডাটাতে দেখেছেন, এর আগে আমি একজন জার্মানি ভদ্রলোকের গাইড হয়ে দুবছর কাজ করেছি। বাংলাদেশের তিনটি জিআই পণ্য। জামদানি শাড়ি, রাজশাহীর খিরশাপাতি আম ও ইলিশ মাছ। এ তিনটি পণ্যের ওপর তিনি গবেষণা করতে এসেছিলেন। সেখানেও আমি ইনজয় করেছি। আপনার দেয়া কাজটাও আমি ইনজয় করে করব। উনার সঙ্গে আমি হাঁটব।’

‘ওকে। তোমার বেতনের বিষয়টা তাহলে আমি দেখব। আশা করি অখুশি হবে না।’

‘এ নিয়ে আপনি ভাববেন না।’

‘তাহলে কথা পাক্কা। আমি তোমার এপয়েন্টমেন্ট লেটার মেইল করে দিচ্ছি।’

‘এ বিষয়ে আপনার ভাই মাহাবুবের সাথে আলাপ করবেন না? উনারও তো বাবা।’

‘তুমি মাহাবুবকে চেনো নাকি?’

‘না। চিনব কি করে। দুদিন আগে তো আপনার সাথেও পরিচয় ছিল না।’

‘তা হলে ওর কথা বললে যে।’

‘আপনার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখলাম। আপনার এক ভাই। নাম মাহাবুব। আমেরিকায় থাকেন।’

‘হ্যাঁ, আমরা দুভাই বোন। দুজনই বাইরে থাকি। তাই বাবা বড় একা। মাহাবুব আমার ছোট। ওকে তোমার এপয়েন্টমেন্টের বিষয়ে কিছু বলতে হবে না। তবে এপয়েন্টমেন্ট লেটারের একটা সিসি কপি আমি ওকে পাঠিয়ে দেব।’

‘আপনার বাচ্চা মৌমিতা বেশ কিউট। আমার নামের সাথে কিছুটা মিল আছে।’

‘তুমি দেখি আমাদের পুরো ফ্যামিলি ডালঘোটার মতো ঘুটে ফেলেছ। এখন বাগার দিতে বাকি।’

‘আমি কার সাথে কথা বলছি। কোথায় কাজ নিচ্ছি। তাদের পারিবারিক বন্ধন কেমন। জেনে নেয়া ভালো নয় কি।’

‘ঠিক তাই। তোমার ব্রেন খুব শার্প। তোমার মানসিকতাও আধুনিক। রুচিসম্মত। এসব কারণে তোমাকে আমি চয়েজ করেছি। আচ্ছা আমার বাবার সাথে পরিচিত হতে চাও? মানুষটি কেমন, কী তার অভিরুচি?’

‘আমার পক্ষ থেকে কোনো প্রয়োজন নেই। আমি তাঁর প্রোফাইলও পড়ে নিয়েছি। উনি সারা জীবন শিক্ষকতা করেছেন। আমি শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করি।’

‘গুড। তাহলে কথা রইল। পহেলা নভেম্বর। তুমি তোমার গোট্টাগাট্টি হল থেকে নিয়ে, বাইশ বাই তিন সেগুনবাগিচা বাসায় উঠে আসছ।’

মিমি সন্ধ্যায় পড়তে পড়তে টেবিলের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুমের মধ্যে সেই স্বপ্ন। ও শুয়ে আছে বিছানায়। ওর বুকের ওপর থেকে ওড়না সরে গেছে। ওর নিশ^াস দ্রুত হচ্ছে। সাথে বুক ওঠানামা। কে যেন ওর বুকের দিকে, শরীরের দিকে অপলক চেয়ে আছে। সেই আগের দেখা স্বপ্ন।

রান্নাঘরে কী একটা শব্দ হয়। মিমির ঘুম ভেঙে যায়। স্বপ্নটাও দৌড়ে পালায়। মিমি আত্মস্থ হতে একটু সময় নেয়। তারপর রান্নাঘরে ছুটে যায়। আদিল সাহেব চা করছেন। কাপে চা ঢালতে যেয়ে কাপে হাতের নাড়া লাগে। কাপ মাটিতে পড়ে চৌচির। আদিল সাহেব চা বানাতে পারেন, এটা মিমি জানার পর থেকে এখন মাঝেমধ্যে আদিল সাহেব চা বানান।

‘আপনি চা করতে গেছেন কেন? আমি তো আছি।’

‘তুমি ঘুমাচ্ছিলে তাই ডাকিনি।’

‘গরম চা হাতে পড়তে পারত?’

‘তা পারত।’

‘আর কখনো নিজে চা করতে যাবেন না। আপনি ড্রয়িংরুমে যেয়ে টিভি অন করেন। আমি চা নিয়ে আসছি।’

‘যাচ্ছি। তবে এখন আর চা খেতে ইচ্ছে করছে না।’

‘কেন?’

‘কেন যেন আগের ইচ্ছেটা মরে গেল। তখন একা কোনো কাজ পাচ্ছিলাম না। তাই চা খেতে ইচ্ছে করছিল।’

‘তাহলে এখানে দাঁড়ান। আমি চা করি। আমার চা বানানো দেখুন। চা খাওয়ার ইচ্ছেটা আবার ফিরে আসবে।’

আদিল সাহেব মুগ্ধ হয়ে মিমির দিকে চেয়ে থাকেন। সরল একটি মেয়ে। অথচ, কী কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। এই জুনে এক বছর হবে।

আদিল সাহেব চা খেতে খেতে বলেন, ‘আমার জন্মদিনে দুজন মিলে কেক কাটার কথা বলেছিলে। তাহলে চলো আমরা বিদেশে কোথাও বেড়াতে যাই। সেখানে আমরা দুজনে একটা মোমবাতি জ¦ালিয়ে কেক কাটব।’

‘বিদেশ আমার ভালো লাগে না। প্রাণহীন মনে হয়।’

‘তাহলে বলো। কোথায় গেলে প্রাণের ছোঁয়া পাওয়া যাবে?’

‘ঢাকার বাইরে কোথাও চলেন।’

‘তুমি বলো। তোমার পছন্দের জায়গা।’

‘হবিগঞ্জ যাওয়া যায়। শুনেছি ওখানে সুন্দর সুন্দর রিসোর্ট আছে।’

‘ঠিক আছে। প্রকৃতির কাছে যেয়ে আমারও ভালো লাগবে।’

‘ওখানে যেয়ে আমরা কিন্তু ঘুমাব না। সারা রাত জেগে থাকব। আকাশ দেখব। রাত জাগা পাখির ডাক শুনব।’

মিমি রাজশাহী থেকে ফিরে এসে আদিল সাহেবকে বলে, আমি এ রুমে থাকি। আপনি ও রুমে। তারচেয়ে আসেন, আমরা গেট টুগেদার করি।

মিমির এ কথা বলতে একটুও ঠোঁট কাঁপে না। যেন মিমি আদিল সাহেবকে বলছে, আপনার জুতোর ফিতে খুলে গেছে। ফিতাটা বেঁধে নিন। এতটা স্বাভাবিক।

হল ছেড়ে এখানে আসার দুদিন যেতে না যেতে, মিমি আদিল সাহেবকে পড়ে ফেলে। সব দেখে ওর সহজ মনটা কেঁদে ওঠে। মানুষ, মানুষ ছাড়া কেমন করে বাঁচে? অর্থ-সম্পত্তি! কোথায় মানুষের শান্তি?

রিসোর্টটা মিমির খুব পছন্দ হয়েছে। ঘন বনের মধ্যে আধুনিক দোতলা বিল্ডিং। চারদিকে সবুজ আর সবুজ। গাছে গাছে নানা রঙের, নানা বয়সী পাখি। সবুজের দিকে তাকিয়ে থাকতে ক্লান্তি আসে না। বরং মন খোলে। কবিতা পড়তে মন চায়।

ঢাকা থেকে বাইরোডে আসাতে মিমির দুচোখে ভ্রমণের ক্লান্তি ছিল। ১০টা বাজতে না বাজতে ও ঘুমিয়ে পড়ে। অথচ আসার আগেও বলেছিল। সারা রাত জেগে থাকবে। আকাশ দেখবে। পাখির ডাক শুনবে।

মাঝরাতে মিমির ঘুম ভেঙে যায়। মিমি চোখ মেলে। দেখে ওর গায়ে কোনো বস্ত্র নেই। আদিল সাহেব দূরে চেয়ারে বসে, ওর দিকে অপলক চেয়ে আছে।

মিমির লজ্জা লাগে। বলে, এভাবে চেয়ে কী দেখছেন?

আদিল সাহেব কোনো উত্তর করে না।

মিমির সেই আগের দেখা স্বপ্নের কথা মনে পড়ে। তা হলে স্বপ্নে দেখা মানুষটি কি আদিল?

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj