মিরসরাইয়ে মন্দির সংস্কার না করেই টাকা উত্তোলন

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের চরশরৎ সার্বজনীন গৌর নিতাই সেবা আশ্রম ও দুর্গা মন্দিরের সংস্কার কাজ না করেই প্রায় ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোকন চন্দ্র দাশের বিরুদ্ধে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত সাড়ে ৮ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ টাকা ২ কিস্তিতে উত্তোলন করলেও মন্দিরের সংস্কার কাজ করেননি তিনি।

জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উপজেলার ১১টি মন্দিরের সংস্কার, মেরামত ও উন্নয়নের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দকৃত টাকা অন্যান্য মন্দিরে সন্তোষজনকভাবে কাজ হলেও চরশরৎ সার্বজনীন গৌর নিতাই সেবা আশ্রম ও দুর্গা মন্দিরের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। মন্দিরের সংস্কার কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে ৭ সদস্যবিশিষ্ট পিআইসি কমিটি থাকলেও অভিযোগ রয়েছে খোকন চন্দ্র দাশ কমিটিকে অবহিত করেননি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মন্দিরের সংস্কার কাজের জন্য ২ কিস্তিতে প্রায় ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৩ বছর আগে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ও এলাকার দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় মন্দিরের ছাদ ঢালাই, চূড়া, ওয়াল ও ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়। টাকার অভাবে দীর্ঘদিন মন্দিরের বাইরের ওয়ালের আস্তর, রং, দরজা, জানালা ও ফ্লোরের টাইলস বসানো যাচ্ছে না। তাই হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়। কিন্তু ট্রাস্টের অধীনে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৯ টাকা বরাদ্দ হলেও কোনো কাজ করা হয়নি।

চরশরৎ সার্বজনীন গৌর নিতাই সেবা আশ্রম ও দুর্গা মন্দিরের কার্যকর কমিটির সভাপতি খোকন চন্দ্র দাশ বলেন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে বরাদ্দকৃত টাকার প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিয়ে মন্দিরের ফ্লোর ঢালাই, ওয়াল তৈরি করেছি। যার ভাউচার পিআইসি কমিটির কাছে জমা দিয়েছি। এছাড়া সেবাশ্রম নির্মাণের জন্য বালু ও রড কিনেছি। তৃতীয় কিস্তির টাকা ফেলে সেবাশ্রম নির্মাণকাজ শেষ করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পিআইসি কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, চরশরৎ সার্বজনীন গৌর নিতাই সেবা আশ্রম ও দুর্গা মন্দিরের সংস্কার কাজের জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দকৃত টাকা অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। বরাদ্দকৃত টাকা থেকে যে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে তার কাজের হিসেব আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য মন্দিরের কার্যকর কমিটির সভাপতিকে বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য উপজেলার একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়েছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj