মসজিদ মক্তবে দোয়া : রোহিঙ্গাদের মধ্যে কৌত‚হল-উদ্বেগ

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

শাহীন শাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার) : বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের চোখ এখন নেদারল্যান্ডসের শান্তি ভবনে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানির দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের মধ্যে কৌত‚হল ও উদ্বেগের শেষ নেই। রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবারের মতো গতকাল বুধবারও সকাল থেকে প্রত্যেক মসজিদ মকতবে দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত অব্যাহত রাখে রোহিঙ্গারা। পাশাপাশি টেলিভিশন, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই দৃষ্টি রাখে। কী হচ্ছে আদালতে তা দেখার জন্য টিভি সেটের সামনে ভিড় করতেও দেখা গেছে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি দেশের সচেতন মহলও গাম্বিয়ার করা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজার অঞ্চল তথা এদেশবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২৬ এর এক নেতা মো. জাকারিয়া বলেছেন, মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি সুষ্ঠু বিচার পাব। হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ সরাসরি গুলি করে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনারা। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় হেগের আদালতের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা। রোহিঙ্গা মাঝি সামশুল আলম বলেন, মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে এদেশে আশ্রয় দিয়েছেন। এতগুলো মানুষ অন্যদেশে এভাবে থাকা সম্ভব নয়। যদি সুষ্ঠু বিচার পাই তাহলে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাব। প্রত্যাশা রাখছি আল্লাহর অশেষ কৃপায় আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাব। রোহিঙ্গা নেতা বদরুল বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে ৭৫ হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়, ১০ হাজার ৫৬৫ জন নারী-পুুরুষ মেরে ফেলে, ১৮৩৩ জনকে ধর্ষণ করে, ৯০৬টি মসজিদ পুড়িয়ে দেয়, ১২০০ মকতব মাদ্রাসা পুড়িয়ে দেয়, ২৫০০ লোক বিনাদোষে জেলে পাঠায়, ৮৮টি গণকবর রয়েছে। মংডুর আংডং গ্রামে ও বুচিডংয়ের গুদামপাড়ার গণকবরে অনেক মৃতদেহ পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে গাম্বিয়া মামলা দায়ের করে বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে যে বিচার শুরু হয়েছে তার জন্য সাধুবাদ জানাই। রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বিচার নিশ্চিত হলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহী হবে এবং স্থানীয় এলাকাসহ দেশের কল্যাণ বয়ে আসবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj