ছায়াপথ কার নাম

সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

তারা ঝিকমিক কালো আকাশের দিকে ভালো করে চেয়ে দেখুন। তবে রাতটা অন্ধকার হওয়া দরকার, চাঁদ থাকলে চলবে না। আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত কুচি কুচি তারায় ভরা এক বিরাট পথ। অন্যসব তারা থেকে একে, এই দুধেল পথকে স্বচ্ছন্দে আলাদা করে চেনা যায়। এই হলো ছায়াপথ। অনেকের মুখে আকাশগঙ্গা, স্বর্গগঙ্গা- এসব নামও শোনা যায়।

খুব জোরালো দুরবিন কষে ছায়াপথকে তাক করলে দেখা যাবে যে এপথ হলো অসংখ্য অগুনতি তারায় ভরা। এক এক জায়গায় তারকার বিরাট সমাবেশ। আমাদের বড় গর্বের এই যে বিচিত্র বিশ^ তার নিজের নয়, তাকে নিয়ে যে বিরাট সৌরমণ্ডল, তার স্থান এই ছায়াপথের একেবারে শেষ সীমায়। খুব যেন লজ্জিত একটা অস্তিত্ব বটে, তা একটু লজ্জার ব্যাপার ঘটে যখন আমরা মহাকাশের বিচিত্র রহস্য জানার চেষ্টা করি, হদিশ পাওয়ার জন্য মহাকাশকে খুঁটিয়ে দেখতে চাই।

আমরা যখন বলি যে আকাশ দেখছি, তখন আমাদের চোখ মোটামুটি ছায়াপথের গণ্ডির মধ্যেই বাঁধা থাকে। অসংখ্য তারার দল আমাদের চোখে দেখা দেয় আলাদা হয়ে নয়, যেন সাজিভর্তি এক থোকা সাদা ফুল। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে এখানে সম্ভবত ১,৫০,০০০,০০০,০০০ নক্ষত্র একত্রে উপস্থিত।

এবার ছায়াপথের অন্য আর একটা তথ্য শুনুন। ছায়াপথের ব্যাস হলো এক লাখ আলোক বর্ষ, ছায়াপথের কেন্দ্রবিন্দু থেকে আমাদের নিজেদের সূর্য রয়েছে ত্রিশ হাজার আলোক বর্ষ দূরে। আমাদের চেনা পরিচিত গ্রহ-উপগ্রহের দল যেমন সৌরমণ্ডলে নিজের নিজের নিয়মে আপন কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে, আমাদের সৌরমণ্ডল একেবারে সপরিবারে ছায়াপথকে পরিক্রমা করে আসে পঁচিশ কোটি বছরে একবার।

মহাকাশের এক বস্তু থেকে অপরের দূরত্ব এত বেশি যে তার এমনিতে মাপজোক চলে না। তাই একটা অন্য হিসাব করা হয়, আলোর প্রতি সেকেন্ডে গতি হলো ৩,০০,০০০ কি.মি. বা ১,৮৬,০০০ মাইল। তাহলে এক বছরে আলো চলবে .৯৪০৮০০০,০০০.০০০ কি.মি. অথবা ৫,৮৮০,০০০,০০০,০০০ মাইল। মহাকাশের সব দূরত্বে মাপ চলে এই আলোক বর্ষের গজ ফিতে দিয়ে।

গ্রন্থনা : ইমরুল ইউসুফ

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj