আমতলীতে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি : বুলবুল কেড়ে নিল কৃষকের স্বপ্ন

রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯

হারুন অর রশিদ, আমতলী (বরগুন) থেকে : আমতলীর কৃষকরা অনেক আশা নিয়ে তাদের জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলেন। সপ্তাহখানের আগেও কৃষকরা তাদের সোনালি ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। রোপণকৃত ধান পাকতেও শুরু করেছিল। সেই সময় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হেনে কৃষকের সে স্বপ্ন শেষ করে দিল।

কৃষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে আমতলী উপজেলায় রোপা আমন ক্ষেত ও রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত শুক্রবার সকালে সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের রোপণকৃত আমন ধান ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে প্রচণ্ড বাতাস ও বৃষ্টিতে হেলে পড়েছে। এখনো অনেক জায়গায় পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে রোপা আমন ধান। হেলে পড়া পানির নিচে নিমজ্জিত ধান দ্রুত না কাটা গেলে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা গ্রামের কৃষক মো. নান্নু হাওলাদার বলেন, আমি ৫ একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। ধানের ফলনও ভালো হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। আমার জমির অধিকাংশ রোপা আমন ধান বাতাসে হেলে ক্ষেতে জমা বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। রোপণকৃত ক্ষেতে পানি জমে ও বাতাসে চারা গাছ মাটিতে হেলে পড়ে লাল শাক, পালং শাক, ফুল কপি, পাতা কপি, বেগুন, করলা, ধনিয়া, মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। আখ ও পানচাষিদেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

হলদিয়া ইউনিয়নের টেপুড়া গ্রামের কৃষক আবু সালেহ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে আমার রোপণকৃত রবিশস্যের ক্ষেতে পানি জমে শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সি এম রেজাউল করিম বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে উপজেলায় ৭ হাজার ৩৮ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও ২২৭.৯ হেক্টর জমির রবিশস্যের ক্ষতি হয়েছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj