বোয়ালমারীতে সরকারি পুকুর দখল করে মাছ ও লাউ চাষ

রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯

কামরুল সিকদার, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) থেকে : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের পাইকহাটি গ্রামে জেলা পরিষদের অর্থায়নে খননকৃত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত একটি পুকুর দখল করে মাছ ও লাউ চাষ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, পানি সংরক্ষণ ও নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলা পরিষদ বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয় পুনঃখনন বা সংস্কার প্রকল্পের অধীনে বোয়ালমারী উপজেলায় ২২টি পুকুর খনন করে।

জলাধারা সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন, ভূপৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার, ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের উচ্চতা হ্রাস, পানিবাহিত ও পানীয়জল সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ কমিয়ে আনার মাধ্যমে গ্রামীণ জনসাধারণের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

কিন্তু বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের পাইকহাটি গ্রামে ঘোষপুর মৌজার ৫৪৫০ দাগে ৩৭ শতাংশ খাসজমিতে জেলা পরিষদের একটি পুকুর রয়েছে। মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে জেলা পরিষদের এই পুকুরটি বর্তমানে দখল করে মাছ ও লাউ চাষ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মো. আবুল হাসেম ব্যাপারী। স্থানীয় মানুষ যাতে পুকুরটি ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য পুকুর ঘেঁষে প্রাচীর দেয়াসহ তালা মেরে রাখা হয়েছে পুকুরে ঢোকার মূল গেটে।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিলে জেলা পরিষদের অর্থায়নে পুকুরটি পুনঃখনন করা হয়। খননের আগে জেলা পরিষদের থেকে লিজ নিয়ে পুকুরটিতে মাছ চাষ করে আসছিলেন হাসেম ব্যাপারী। বর্তমানে পুকুরটি প্রকল্পধীন থাকায় লিজ বা মাছ চাষ নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু হাসেম ব্যাপারী প্রভাবশালী হওয়ায় এ বিধিনিষেধ অমান্য করে মাছ ও লাউয়ের চাষ করে আসছেন। যে কারণে সাধারণ মানুষকে পুকুরটির পানি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না তিনি।

এ ব্যাপারে মো. আবুল হাসেম ব্যাপারী বলেন, পুকুরটির দুই পাড়ে আমার জমি রয়েছে সে কারণে আমি পুকুরের চারপাশে লাউয়ের আবাদ করেছি এবং কিছু মাছ ছাড়া হয়েছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান বলেন, পুকুর দখল করে মাছ ও লাউ চাষ করার বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গা খালি করে দেয়ার জন্য বলেছি। দখলকারী আবুল হাসেম ব্যাপারী আমাদের কাছ থেকে ১৫-২০ দিনের সময় নিয়েছেন। বিষয়টি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj