অযোধ্যা বাবরি মসজিদ সংকট : অধিগৃহীত জমিতেই মসজিদের জায়গা চায় মুসলিমরা

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : অযোধ্যায় রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ ইস্যুতে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি খোঁজা শুরু করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। তবে মামলার বাদী ইকবাল আনসারী বলেছেন, জমি বরাদ্দ দিলে তা অবশ্যই বিরোধপূর্ণ স্থানে সরকারের অধিগ্রহণ করা ৬৭ একর জমির মধ্য থেকেই বরাদ্দ করতে হবে। শতাব্দী প্রাচীন বিবাদে ইতি টেনে গত সপ্তাহে অযোধ্যা মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে গড়ে উঠবে রাম মন্দির। আর অযোধ্যার অন্য যে কোনো স্থানে মসজিদের জন্য বরাদ্দ করা হবে ৫ একর জমি। বিরোধপূর্ণ ওই স্থানের ৬৭ একর ভূমি ১৯৯১ সালে অধিগ্রহণ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ইকবাল আনসারি বলেন, তারা যদি আমাদের জমি দিতে চায়, তাহলে আমাদের সম্মতির ভিত্তিতে দিতে হবে আর তা দিতে হবে ওই অধিগ্রহণ করা ৬৭ একর জমির ভেতর থেকেই।

স্থানীয় মুসলিম নেতা মাওলানা জালাল আশরাফ বলেন, মুসলমানরা মসজিদ বানাতে নিজেরা জমি কিনে নিতে পারে, এ জন্য সরকারের ওপর নির্ভর করে থাকা লাগে না। যদি আদালত ও সরকার আমাদের আবেগের সামান্যতম নিরসন করতে চায় তাহলে অধিগ্রহণ করা জমি থেকেই ওই ৫ একর জমি দিতে হবে।

ওই এলাকার মধ্যে ১৮ শতকের মুসলিম সাধক কাজী কুদওয়ার দরগাহ ও বহু কবরস্থান রয়েছে। সর্বভারতীয় মিল্লি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক খালেক আহমেদ খানও একই মত পোষণ করেন। মামলার অপর এক বাদী হাজী মাহবুব বলেন, আমরা এই ললিপপ গ্রহণ করব না। আমাদের জমি কোথায় দেয়া হবে তা অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে। জমিয়ত উলামা হিন্দের অযোধ্যা শাখার প্রেসিডেন্ট মাওলানা বাদাহ খান বলেন, মুসলমানরা বাবরি মসজিদের জন্য মামলায় লড়েছে, অন্য কোনো জমির জন্য নয়।

সমাজকর্মী ইউসুফ খান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এই ইস্যু শেষ হয়ে গেছে আর মসজিদের জন্য এখন আর অতিরিক্ত জমি দরকার নেই। ধর্মীয় প্রয়োজন মেটাতে অযোধ্যায় আমাদের যথেষ্ট মসজিদ রয়েছে, সর্বোচ্চ আদালত রাম মন্দিরের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই ইস্যু এখন শেষ। এদিকে জমি ইস্যুতে আলোচনার জন্য আগামী ২৬ নভেম্বর লখনৌতে বৈঠক ডেকেছে উত্তর প্রদেশ সুন্নি ওয়াক্্ফ বোর্ড।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj