আক্কেলপুরের মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা : দুদককে তদন্তের নির্দেশ

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক ২টি মামলা হয়েছে। আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবর রহমান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক এ বি এম এনায়েতুর রহমান আকন্দ বাদী হয়ে গত বুধবার জয়পুরহাট স্পেশাল জজ আদালতে মামলা ২টি দায়ের করেন। আদলত মামলা ২টি আমলে নিয়ে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বি এম এনায়েতুর রহমানের দায়ের করা মামলায় গোলাম মাহফুজসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২টি মামলায় গোলাম মাহফুজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯সহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল আদলত ২টি মামলা আমলে নিয়ে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতা পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালত ও ২টি মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে একই আদালতে পৃথকভাবে ২টি মামলা দায়ের করা হয়। একটি মামলার বাদী আক্কেলপুর পৌর এলাকার মুকিমপুর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মজিবর রহমান অন্যটির আক্কেলপুর সদরের বাসিন্দা এ বি এম এনায়েতুর রহমান আকন্দ।

মজিবর রহমান তার এজাহারে বলেছেন, তার মেসার্স রোজী চাউল কল নামে চাতাল রয়েছে। এ নামে তার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদারি লাইসেন্স রয়েছে। তিনি সুনামের সঙ্গে চাতাল ও ঠিকাদারি ব্যবসা করে আসছেন।

গোলাম মাহফুজ চৌধুরী আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ও অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে অর্থের ভান্ডার গড়েছেন। মজিবর রহমান বলেন, তিনি পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক কাজের প্রাক্কলিত মূল্যের কমে দরপত্র দাখিল করেন। কিন্তু মেয়র বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে কম মূল্যে দেয়া দরপত্র বাতিল করে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে নিজের পছন্দের ঠিকাদার নির্বাচিত করেন। একইভাবে ৩টি কাজে সরকারের ২ লাখ ৬০ হাজার ৫৭৩ টাকা ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু মেয়র দুর্নীতির মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

এ বি এম এনায়েতুর রহমান তার এজাহারে বলেন, গোলাম মাহফুজ চৌধুরী আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজসহ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়ে চাকরিতে নিয়োগসহ বিভিন্ন কাজে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিক ফারুক আলম চৌধুরীকে জাল সনদে চাকরি দেন। তদন্তে জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি তার সনদ জাল বলে ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ কলেজের অধ্যক্ষকে জানিয়ে দেন।

২টি মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গোলাম মাহফুজ চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই সময় নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় নিজস্ব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল্যে ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪১২ টাকা ও তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২৫ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। পরে গোলাম মাহফুজ চৌধুরী আক্কেলপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হন। গত ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি হলফনামায় নিজস্ব অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯০ টাকা আর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ ৯১ হাজার ৪১২ টাকা দেখিয়েছেন। তার স্ত্রীর নামে অস্থাবর (নগদ) ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৯৬ টাকা দেখিয়েছেন। বর্তমানে গোলাম মাহফুজ চৌধুরী দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জয়পুরহাট শহরে তার ২টি বিরাট অট্টালিকা রয়েছে। যার মূল্য হবে কয়েক কোটি টাকা। নিজের ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি ও অবৈধভাবে বহু সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ ছাড়া তার স্ত্রীর নামে ২৭ লাখ টাকার একটি কার রয়েছে।

মামলার বাদী মজিবর রহমান বলেন, গোলাম মাহফুজ চৌধুরীর মাত্র কয়েক বছর আগে মোটরসাইকেলে চড়ে বেড়াতেন। তিনি পৌর মেয়র হওয়ার পর দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ বলেন, জয়পুরহাটে আমার একটি বাসা রয়েছে। সেটিও আমি ও আমার স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৬০ লাখ ঋণ নিয়ে করেছি। আমার একটি গাড়ি রয়েছে। সেটিও ঋণের টাকায় কেনা। মজিবর রহমানের স্ত্রী পৌরসভার কাউন্সিলর। এনায়েতুর রহমান পৌরসভা নির্বাচনে আমার প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন। সামনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে দলের পদ-পদবি প্রত্যাশীরা আমার বিরুদ্ধে ষড়ষন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। দুদকের সঠিক তদন্তে আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে বলে আশা করছি।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj