বুলবুলের শুরুতেই হোঁচট : কুতুবদিয়ায় লবণ উৎপাদনে মাঠে নেমেছেন চাষিরা

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

এম এ মান্নান, কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) থেকে : ২০১৯-২০ অর্থবছরে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন কুতুবদিয়ার লবণ চাষিরা। সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝিতে মাঠ তৈরির কাজ শুরু করলেও এবার আবহাওয়া পরিবর্তনে অক্টোবরের শেষে চাষিরা মাঠ তৈরির কাজ শুরু করেন। তবে শুরুতেই মাঠ তৈরিতে হোঁচট খেয়েছেন চাষিরা। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বৃষ্টিপাতে মিঠা পানিতে ডুবে যায় মাঠ। এতে পিছিয়ে যায় মাঠ তৈরির কাজ।

স্থানীয় বিসিক ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মতে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৬ হাজার ৯৮০ একর জমিতে লবণ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া লেমশিখালীতে লবণ প্রদর্শনী কেন্দ্রে (বিসিক) রয়েছে ৭৯ একর লবণ মাঠ। গত দুবছর ধরে লবণের দাম পাচ্ছেন না চাষিরা।

কিন্তু জমির লাগিয়ত মূল্য বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অধিকাংশ লবণ চাষের জমি লবণ ব্যবসায়ীদের দখলে। উপজেলায় অন্তত ২০০ লবণ ব্যবসায়ী রয়েছেন। যারা চাষিদের লবণ বেচেই আঙুল ফুলে কলাগাছ। প্রতি একর লবণ-জমি একসনা ৮০/৮৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে বেড়েছে ৬ মাসের জন্য লবণ শ্রমিকের পারিশ্রমিক ৮০-১১০ হাজার টাকা। আবহাওয়া ভালো হলে প্রতি একরে ৭০০ মণ সাদা লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে।

কৈয়ারবিল সেন্টার পাড়ার লবণ চাষি অনন্ত নাথ, মধ্যম কৈয়ারবিলের মনজুর আলম জানান, লবণের দাম নেই। মাঠে পুরাতন প্রতি মণ লবণ ১৬০ টাকা। দাম বাড়বে সেই আশায় চাষ করা শুরু করেছি। এ ছাড়া বিদেশ থেকে লবণ আমদানির গুজবেও লবণ ব্যবসায়ীরা মাঠপর্যায়ে দাম কমিয়ে দেন। কষ্ট করে উৎপাদিত লবণ ন্যায্য দামে বিক্রি করতে না পারলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে তারা মনে করেন।

উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের লবণ ব্যবসায়ী সামসুল আলম ও মো. হোছাইন বলেন, মাঠে পুরাতন লবণের দাম প্রতি মণ ১৬০-১৭০ টাকা। মন্দা যাচ্ছে মৌসুম। নতুন লবণ উৎপাদনে চাষিরা মাঠে নেমেছেন। নতুন লবণ ওঠার আগে দাম না বাড়লে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু চাষিরা হবেন না, সেই সঙ্গে লবণ ব্যবসায়ীরাও আর্থিক লোকসানে পড়বেন।

স্থানীয় বিসিকের সহকারী পরিদর্শক হাফেজ জাকের হোছাইন বলেন, নতুন অর্থবছরে লবণ উৎপাদনে ব্যক্তিগত মাঠে চাষিরা মাঠ তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এদিকে বিসিক মাঠে ৭৯ একর লবণ জমি প্রান্তিক চাষিদের মাঝে একসনা বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়ায় ফরম বিতরণ চলছে বলে তিনি জানান।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj