বাবার অপকর্ম ঢাকতেই রাবি ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ মেসবার!

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক, রাজশাহী : বাবা আব্দুস সাত্তার কাদেরী (৫৮) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার এজহারভুক্ত আসামি। মামা আব্দুল গণি মাস্টার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা জামায়াতের বর্তমান আমির। এই হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. মেজবাহুল ইসলামের পারিবারিক পরিচয়। মেজবাহুল নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির হওয়ার আগে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বাবা আব্দুস সাত্তারের নানা অপকর্ম ঢাকতেই মেসবাহুল রাবি ক্যাম্পাসে এসে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বাবার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী মামলা এবং মামার রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি স্বীকার করলেও নিজে ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী বলেই দাবি করেছেন ছাত্রলীগের এই নেতা। মেজবাহুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের মো. আব্দুস সাত্তার কাদেরীর ছেলে। সম্প্রতি দঔড়ুধ ঐধংধহ উরুধ’ নামের এক ফেসবুক অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টে মেজবাহুলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। পোস্টে ২০১৭ সালে তার (মেজবাহুল) বাবা মো. আব্দুস সাত্তার কাদেরীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার চার্জশিটের কপি সংযুক্ত করে বলা হয়েছে, এ কি করে ছাত্রলীগ এ পদ-পদবি পায়, জঙ্গি মামলার আসামির সন্তান এখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি! সে নিজেও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সহসভাপতি ছিল, তার মামা উপজেলা জামায়াতের বর্তমান আমির…।

ফেসবুকে পোস্টকৃত দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার চার্জশিটে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই ডিবির এসআই মো. বজলুর রশিদ আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন। চার্জশিটে মো. আব্দুস সাত্তারসহ তিনজনকে গোপন বৈঠকে মিলিত হওয়ার ষড়যন্ত্র করায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধিত/২০১৩) এর ৮/১০ ধারা অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটে আব্দুস সাত্তার কাদেরীকে একজন পলাতক আসামি হিসেবেও দেখানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে আদালতে চার্জশিট দাখিলকারী দিনাজপুর জেলা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. বজলুর রশিদ বলেন, জেলা ডিবির এসআই মো. ফরিদুল ইসলাম দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি অভিযোগ (অভিযোগ নং-১১১৭) দায়ের করেন। পরবর্তী সময় ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই আমি আদালতে চার্জশিট দাখিল করি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেজবাহুলের বাবা নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই কাহারোল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিল। তার মামা আব্দুল গণি মাস্টার বর্তমান উপজেলা জামায়াতের আমির। এ ছাড়া সে নিজেও ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। মূলত, বাবার অপকর্ম ঢাকতেই মেজবাহুল ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেছে। কাহারোল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শেখর কুমার দাস বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে তাকে কখনো ছাত্রলীগ করতে দেখিনি। তবে তার মামা উপজেলা জামায়াতের বর্তমান আমির। এ ছাড়া শুনেছি তার বাবার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস আইনে মামলা রয়েছে। তবে অভিযুক্ত রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. মেজবাহুল ইসলাম বলেন, সামনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন রয়েছে। সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আমার একটা আবেদন আছে। আর ষড়যন্ত্রকারীরা এটা বুঝতে পেরে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সার আহম্মেদ রুনু বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। আমরা তার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj