সংসদে প্রধানমন্ত্রী : রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টিতে জিয়ার হাত ছিল

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জিয়াউর রহমানের যে হাত ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর শুরু হয় হত্যা ক্যুর রাজনীতি। এরপর ১৯৭৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর ১৯৭৮ সালে শুরু হয় রোহিঙ্গা সমস্যা। তবে আমরা রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে উদ্যোগ নিয়েছি।

গতকাল বুধবার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিবেশী কোনো দেশের কেউ কোনো রকমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না। তাদের কোনো অবস্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না। আরসা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, বাংলাদেশের মাটি আমরা কাউকে ব্যবহার করতে দেব না।

সংসদ নেতা আরো বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে এবং একটি চুক্তিও করেছে। কিন্তু সমস্যা হলো, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা দেশটিতে ফেরত যেতে চাচ্ছে না। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার পর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বাস সৃষ্টি করা তাদেরই (মিয়ানমার) দায়িত্ব।

সরকারি দলের সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দু’টি দেশ- চীন ও ভারতের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি এবং এ বিষয়ে তাদের সক্রিয় ভূমিকা আমরা আশা করছি। শুধু ভারত আর চীনের সঙ্গেই নয়- বাংলাদেশসহ মিয়ানমারের সঙ্গে যে কয়টি দেশের বর্ডার সম্পৃক্ত রয়েছে যেমন চীন, ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড এবং লাউস প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গেই আলোচনা করেছি।

গতকাল জাতীয় সংসদের প্রশ্ন-উত্তরে একাধিক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাসিনো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমাজের সব স্তরে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ক্যাসিনো-দুর্নীতির সঙ্গে রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা যেই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন ১৩ হাজার ২৩৮টি অভিযোগের অনুসন্ধান, ৩ হাজার ৬১৭টি মামলা দায়ের এবং ৫ হাজার ১৭৯টি চার্জশিট দাখিল করেছে।

জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সর্বপ্রকার হয়রানি অবসানে আমরা বদ্ধপরিকর।

জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচনায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। বাংলাদেশ থেকে ভারতের ত্রিপুরায় বাল্ক এলপিজি রপ্তানির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে আমদানি করা এলজিপি গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে ভারতে রপ্তানি করে মুনাফা অর্জন করতে পারবে। এতে বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সমস্যার সৃষ্টি হবে না, উপরন্তু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন একটি ক্ষেত্র উন্মোচিত হলো।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj