ডায়াবেটিস রোগীর বিপদ হাইপোতে

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

সেবিকা দেবনাথ : হাইপোগøাইসেমিয়া বা হাইপো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এক ভীতিকর অবস্থা। এ সময় রোগীর রক্তের শর্করা বা গøুকোজের পরিমাণ কমে যায়। দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কতজন হাইপোতে আক্রান্ত হয় এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ৭৩ শতাংশ টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীর জীবনে কোনো না কোনো সময় রক্তের শর্করা কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, রক্তে শর্করার মাত্রা চার মিলিমোলের নিচে চলে গেলে হাইপো বলা হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, শর্করা হচ্ছে মস্তিষ্কের একমাত্র শক্তি সরবরাহকারী উপাদান। তাই মাত্র কয়েক মিনিট এই সরবরাহ বন্ধ থাকলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এমনকি রোগী চিরদিনের জন্য কোমায় চলে যেতে পারে বা মৃত্যুও হতে পারে।

হাইপোর লক্ষণ প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা বলেন, রোগীর বুক ধড়ফড় করা, কাঁপুনি, প্রচণ্ড ঘাম, চোখে ঝাপসা দেখা, অস্বাভাবিক আচরণ, অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারে। কেন ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করা কমে যায় এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সঠিক সময় খাবার গ্রহণ না করা এবং হঠাৎ করে অনেক বেশি পরিশ্রম করলে ডায়াবেটিস রোগীর এ অবস্থা হয়ে থাকে। বলা যায়, ৯০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর এ কারণেই এই অবস্থা হয়। এ ছাড়া সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও মুখে খাবার ওষুধের চেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যারা ইনসুলিন নেন তাদের হাইপো হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম ভোরের কাগজকে বলেন, ডায়াবেটিসের চিকিৎসা শুরুর দিকেই হাইপোর ঝুঁকি বেশি থাকে। রোগী যদি ডায়াবেটিস সংক্রান্ত শিক্ষা পায় তবে দ্রুতই তা কমতে পারে। তবে কিডনি অকেজো, লিভারের সমস্যা এবং অতিরিক্ত ইনসুলিন বা ট্যাবলেট গ্রহণের কারণেও রোগীর হাইপোর সমস্যা হয়।

হাইপো হলে রোগীর কী ধরনের ঝুঁকি হয় সে প্রসঙ্গে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফরিয়া আফসানা ভোরের কাগজকে বলেন, রক্তের শর্করা কমে গেলে রোগীর কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়। হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি কমে যায়। হাইপো হলে রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে চিনির শরবত, জুস, মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। তবে এ অবস্থা যাতে না হয় সে জন্য খাদ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন এই চিকিৎসক।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj