রহস্যজনক মৃত্যু : বোয়ালখালীতে বিধবার লাশ উদ্ধার

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে রমিজা খাতুন (৫২) নামে এক ৪ সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর পালিয়ে গেছে আলমগীর নামে নিহতের এক পাতানো ভাই।

গতকাল বুধবার সকালে বোয়ালখালী পৌরসভার বহদ্দার পাড়ার আবদুস সালামের ভাড়া করা ঘরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

নিহত রমিজা খাতুন উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের মৃত হাফিজুর রহমানের মেয়ে ও মৃত বদিউল আলমের স্ত্রী। তার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। গত ২৬ বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে মো. রুবেল জানান, গত ৪ মাস আগে বোয়ালখালী পৌরসভার বহদ্দার পাড়ায় পাতানো ভাই মো. আলমগীরকে নিয়ে ভাড়া বাসায় ওঠেন তার মা। তিনি আলমগীরকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েও দিয়েছিলেন। ভাইদের মধ্যে বড় ভাই প্রবাসে থাকেন, মেজ ভাই একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে নগরীতে পরিবার নিয়ে থাকেন। তিনি বাঁশখালীতে তার শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। বুধবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মো. আলমগীরের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

মো. আলমগীর বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছে দাবি করে মো. রুবেল বলেন, সে আমার মাকে খুন করে পালিয়েছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

নিহত রমিজার পাতানো ভাই মো. আলমগীর ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বৈদ্যের কাজ করত। সেই সুবাদে আলমগীরের সঙ্গে রমিজা খাতুনের পরিচয় বলে জানান স্থানীয়রা। বুধবার সকাল ৮টার দিকে আলমগীরকে দোকান থেকে পান কিনতে দেখা গিয়েছিল বলে জানান এলাকাবাসী।

থানার উপপরিদর্শক মো. তাজউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে একটি ভাড়া বাসা থেকে রমিজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রমিজা খাতুনের মরদেহ ভাড়া বাসার একটি পালঙ্কের উপর পড়েছিল। গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় গোলাকৃতির কালচে দাগ রয়েছে। পাতানো ভাই মো. আলমগীর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বোয়ালখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধারণা করছি। সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর বিস্তারিত জানা যাবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj