বাংলাদেশ ওমান দ্বৈরথ

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : বিশ^কাপ ও এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাইয়ে আজ শক্তিশালী ওমানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। রাজধানী মাসকটের সুলতান ক্কাবোস স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়। আগামী বছরের ৯ জুন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হোম ম্যাচে ফের মুখোমুখি হবে এ দুদল। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ওমান বাংলাদেশের ১০০ ধাপ উপরে। র‌্যাঙ্কিং নিয়ে ভাবছেন না জামাল ভূঁইয়াদের ইংলিশ কোচ ডেমি ডে। তার ভাবনাজুডে রয়েছে ওমানকে রুখে এক পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফেরা। শিষ্যদের এ মন্ত্রে উজ্জীবিত করছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ওমান একদম নতুন প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের জন্য। দুই দেশের জাতীয় দলের আগে কখনো দেখা হয়নি। তবে উভয় দেশের খেলা শেষ ৬টি ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়- ওমান ৪টি হার, ১টি ড্র এবং ১টিতে জয় পেয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশের ২টি হার, ২টি ড্র ও ২টি জয়। তবে এরই মধ্যে মূল লড়াইয়ের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ওমান প্রিমিয়ার লিগের দল মাসকট এফসিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে জেমি ডের শিষ্যরা। জয়ের আত্মবিশ^াসটা বাড়তি পাওনা হিসেবে কাজ করবে তাদের।

এশিয়া অঞ্চলের বাছাই পর্বের নিজেদের গ্রুপে এখন পর্যন্ত মোট ৩টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১-০ ও কাতারের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হারলেও শেষ ম্যাচে ভারতের মাটি থেকে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে ফেরে জামাল ভূঁইরা। জেমির তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ এখন আশা জাগানিয়া ফুটবল খেলছে। বাছাই পর্বে এখনো কোনো জয় না পেলেও বাংলাদেশের পারফরমেন্সে সবাই খুশি। গ্রুপের সব দলই বাংলাদেশের উপরে। তাই এ দলগুলোর কাছ থেকে ভালো ফল পাওয়া কঠিন। কিন্তু এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৩টি ম্যাচেই বাংলাদেশ খেলেছে বুক চিতিয়ে। সর্বশেষ ম্যাচে কলকাতায় ভারতকে তো অল্পের জন্য হারাতে পারেনি। খেলা শেষ হবার ২ মিনিট আগে গোল খেয়ে ড্র করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

‘ই’ গ্রুপে থাকা ওমান পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তারা ২টি ম্যাচ জিতেছে ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে, হেরেছে কাতারের বিপক্ষে। বাংলাদেশকে হারাতে পারলে ৯ পয়েন্ট হবে তাদের ঝুলিতে। অপরদিকে বিশ^কাপ বাছাই দ্বিতীয় পর্বের ৩ ম্যাচ থেকে মাত্র এক পয়েন্ট বাংলাদেশের। পাঁচ দেশের মধ্যে সবার নিচে থাকা লাল-সবুজ জার্সিধারীদের চতুর্থ ম্যাচ ওমানের বিপক্ষে ওমানের মাটিতে ম্যাচটিকে অতিশয় কঠিন মনে করছেন বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে। তার কথা, ওমানের সঙ্গে ড্র করতে হলেও তার দলকে স্বাভাবিকের চেয়েও অনেক ভালো খেলতে হবে।

১০ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প এবং এক ম্যাচে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দল ওমানের বিপক্ষে জয়ের পরও স্বাগতিকদের বিপক্ষে পয়েন্ট পাওয়া কঠিন হবে। ড্র পাওয়ার জন্য তার শিষ্যদের স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ভালো খেলতে পারেন কিনা জামাল ভঁ‚ইয়ারা, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচ বলেই যে বাংলাদেশ হাল ছেড়ে দেবে সেদিন নেই। আগের ম্যাচেই জামাল ভঁ‚ইয়ারা সেটা প্রমাণ করেছেন। ভারতের মাঠে অল্পের জন্য জিততে না পারা বাংলাদেশ যে মাসকটে ওমানকে ছেড়ে কথা কইবে না তা ফুটবলাররা বুঝিয়ে দিচ্ছেন শারীরিক ভাষা দিয়ে।

আগের দুই ম্যাচের উদাহরণ দিয়ে শিষ্যদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ, কাতার ও ভারত ম্যাচের পারফরমেন্স ধরে রাখতে পারলে ওমানের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। ৩ ম্যাচে ৬ গোল করা ওমানের ফরোয়ার্ডদের ঠেকাতে দলের ডিফেন্ডারদের প্রতি তার উপদেশ, ভারত ম্যাচের মতো ডিফেন্স লাইন জমাট করে খেলতে হবে আমাদের।

পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধান দুশ্চিন্তা আক্রমণভাগ নিয়ে। কলকাতায় বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও একটির বেশি গোল পায়নি দল। এর আগে ঢাকায় কাতারের বিপক্ষেও সুযোগ নষ্টের মাশুল দিয়ে হারতে হয়েছে ২-০ গোলে। জেমি ডের আশা, ওমানের রাজধানী মাসকটে এই সমস্যার অবসান হবে, সবচেয়ে ইতিবাচক ব্যাপার হলো- আমরা গোল করার সুযোগ পাচ্ছি। এখন শুধু সুযোগগুলোকে গোলে রূপান্তরের চেষ্টা করতে হবে।

ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশের চাওয়ার কিংবা হারানোর কিছু নেই। ভালো একটা লড়াই করতে পারলেই খুশি হবেন কোচ। কারণ বাংলাদেশের বিপক্ষে ফেভারিট হয়েই মাঠে নামবে তারা। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ উপরে থাকা দলটিকে মোকাবেলা করতে জামাল-রানারা যে সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়েই লড়তে হবে, তা বলাই বাহুল্য।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj