জীবন বিমায় ১০ বছরে সর্বোচ্চ দাবি পরিশোধ

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল এই এক দশকে দেশের জীবন বিমাখাত সর্বোচ্চ বিমা দাবি পরিশোধ করেছে ২০১৮ সালে। আলোচ্য বছরে উত্থাপিত মোট বিমা দাবির ৮৮.৫১ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে, যার পরিমাণ ৬ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। বিমা দাবি পরিশোধের এই হার এবং পরিমাণ উভয়ই ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে মৃত্যুদাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ, সারেন্ডার, সার্ভাইভাল বেনিফিট, গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবি বাবদ সর্বমোট ৭ হাজার ৪২৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা বিমা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো। সে হিসাবে আলোচ্য বছরে ৮৫৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা বা ১১.৪৯ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। ২০১৮ সালে মৃত্যুদাবির ২১৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বা ৬৩.৬১ শতাংশ, মেয়াদোত্তীর্ণ বিমার ৩ হাজার ৮০৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বা ৯০.৫৩ শতাংশ, সারেন্ডার বিমার ৯৬১ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৯৮.৮২ শতাংশ, সার্ভাইভাল বেনিফিট ১ হাজার ৫১ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ৮৩.৫৭ শতাংশ এবং গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবির ৫৩৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বা ৮২.৭১ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে দেশের লাইফ বিমা খাতে মৃত্যুদাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ, সারেন্ডার, সার্ভাইভাল বেনিফিট, গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবি বাবদ মোট ৬ হাজার ৮০৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বিমা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫৫০ কোটি ৭১ লাখ টাকা বা ৮১.৫৯ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো। অর্থাৎ বছরটিতে ১ হাজার ২৫২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ১৮.৪১ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন থেকে যায়। সূত্র আরো জানায়, ২০১৬ সালে দেশের জীবন বিমা খাতে মৃত্যুদাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ, সারেন্ডার, সার্ভাইভাল বেনিফিট, গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবি বাবদ সর্বমোট ৬ হাজার ২৫৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বিমা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩৭০ কোটি ৮ লাখ টাকা বা ৮৫.৮৮ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো। সে হিসাবে আলোচ্য বছরে ৮৮২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বা ১৪.১২ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন রয়ে যায়। ২০১৫ সালে দেশের জীবন বিমা খাতে মৃত্যুদাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ, সারেন্ডার, সার্ভাইভাল বেনিফিট, গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবি বাবদ মোট ৫ হাজার ৬৮৯ কোটি ২২ লাখ টাকা বিমা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা বা ৮৫.২৯ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো। অর্থাৎ বছরটিতে ৮৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বা ১৪.৭১ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন থেকে যায়। ২০১৪ সালে মৃত্যুদাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ, সারেন্ডার, সার্ভাইভাল বেনিফিট, গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবি বাবদ সর্বমোট ৪ হাজার ৩৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ৮০.৪১ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো। সে হিসাবে আলোচ্য বছরে ৮৪৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা বা ১৯.৫৯ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন রয়ে যায়। ২০১৩ সালে মৃত্যুদাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ, সারেন্ডার, সার্ভাইভাল বেনিফিট, গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবি বাবদ মোট ৩ হাজার ৫০৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ৭৮.২৮ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো। অর্থাৎ বছরটিতে ৭৬১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বা ২১.৭২ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন থেকে যায়। এ ছাড়াও ২০১২ সালে মৃত্যুদাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ, সারেন্ডার, সার্ভাইভাল বেনিফিট, গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবি বাবদ সর্বমোট ২ হাজার ৯২৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ২২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ৭৬.২১ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো। সে হিসাবে আলোচ্য বছরে ৬৯৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বা ২৩.৭৯ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন রয়ে যায়।

আইডিআরএ সূত্র জানায়, ২০১১ সালে জীবন বিমা খাতে মৃত্যুদাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ, সারেন্ডার, সার্ভাইভাল বেনিফিট, গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য দাবি বাবদ মোট ২ হাজার ৩১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বিমা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বা ৭৬.০৫ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো। অর্থাৎ বছরটিতে ৫৫৪ কোটি ৮ লাখ টাকা বা ২৩.৯৫ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন থেকে যায়। ২০১০ সালে মৃত্যুদাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ, সারেন্ডার, সার্ভাইভাল বেনিফিট, গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবি বাবদ সর্বমোট ১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বা ৭৫.৪২ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো। সে হিসাবে আলোচ্য বছরে ৪৬৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বা ২৪.৫৮ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন রয়ে যায়। আর ২০০৯ সালে মৃত্যুদাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ, সারেন্ডার, সার্ভাইভাল বেনিফিট, গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবি বাবদ সর্বমোট ১ হাজার ৫৮২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা দাবি উত্থাপন হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ১৩৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা বা ৭১.৯১ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো।

সে হিসাবে আলোচ্য বছরে ৪৪৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বা ২.০৯ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন রয়ে যায়।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj