জনপ্রিয় হচ্ছে আয়কর মেলা : মেলার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় ১৩ হাজার কোটি টাকা

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ভোগান্তি-হয়রানি এড়াতে আয়করদাতারা রাজস্ব প্রদানের জন্য আয়কর মেলাকে বেছে নেন। এ কারণে গত কয়েক বছরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আয়কর মেলা। প্রতিবছর আয়কর মেলা থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় হচ্ছে। গত ৯ বছরে শুধু মেলা থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালে আয়কর মেলার আয়োজন শুরু করে রাজস্ব বোর্ড। ওই বছর আয়কর মেলা থেকে এনবিআর আদায় করেছিল ১১৩ কোটি টাকা। পরের বছর ২০১১ সালে আয়কর মেলা থেকে আদায় হয় ৪১৪ কোটি টাকা। তার পরের বছর ২০১২ সালে আদায় হয় ৮৩১ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে আদায় হয় ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে মেলা থেকে আদায় হয় ১ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের মেলা থেকে ২ হাজার ৩৫ কোটি টাকা আদায় করে এনবিআর। ২০১৬ সালে ২ হাজার ১২৯ কোটি, ২০১৭ সালে ২ হাজার ২১৭ কোটি টাকা এবং ২০১৮ সালে আয়কর মেলা থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত ৯টি মেলা থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আদায় করেছে এনবিআর।

এনবিআর বলছে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রয়োজনে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করার পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করতে আয়কর বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আয়কর কেবল রাজস্ব আহরণের প্রধান খাত নয়, এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠারও কার্যকরী মাধ্যম।

সূত্র জানায়, মেলায় কর আদায়ের পাশাপাশি রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১০ সালে আয়কর মেলায় মাত্র ৫২ হাজার ৫৪৪ জন রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। গত বছর (২০১৮) আয়কর মেলায় রিটার্ন দাখিল করেছেন ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৩ জন। ২০১৭ সালে আয়কর মেলায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮৭ জন। এনবিআর থেকে বলা হচ্ছে, আয়করের মতো কঠিন বিষয়কে নিয়ে মেলার আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জনসেবার ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে। এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাঙালি জাতির উৎসবমুখী চিরায়ত সামাজিক জীবনের সঙ্গে মিশে আছে আয়কর মেলা। করদাতারা এই মেলায় এসে উৎসবের আমেজে আয়কর দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তার মতে, আয়কর মেলার অর্জন অনেক। আয়কর মেলা চালুর ফলে প্রতি বছরই কর দেয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। রিটার্ন জমার পরিমাণ বাড়ছে। আদায় বাড়ছে। নতুন টি-আইন ইস্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

সূত্র আরো জানায়, গত বছরের (২০১৮) আয়কর মেলায় নতুন টিআইএন বা ইটিআইএন ইস্যু হয়েছে ৪৫ হাজার ৪৩৭ জনের নামে। আগের বছর ২০১৭ সালে মেলা থেকে ২৯ হাজার মানুষ টিআইএনধারী হয়েছেন। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার ৮৫৩। এনবিআর বলছে, ৯ বছরে শুধু মেলা থেকেই ২ লাখ ৭২ হাজার ১৪৮ জনের নামে নতুন টিআইএন বা ইটিআইএন ইস্যু হয়েছে। মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলছেন, আয়কর মেলার কারণে করদাতাদের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বেড়েছে। অনেকেই এখন স্বেচ্ছায় আয়কর দিতে আসছেন। আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে অন্যের ওপর যাদের নির্ভরশীলতা ছিল প্রতি বছর মেলা হওয়ার কারণে সেটা কমে এসেছে। অনেকেই নিজের আয়কর রিটার্ন নিজেই পূরণ করতে পারছেন। কর সম্পর্কে অস্পষ্টতা ও ভয়ভীতি অনেক ক্ষেত্রে কেটে গেছে। এভাবে প্রতি বছর মেলা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে অস্পষ্টতা ও ভয়-ভীতি একেবারেই থাকবে না বলেও মনে করেন তিনি। এদিকে করসেবা আরো সহজবোধ্য ও করসেবা করদাতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে একটি ওয়েবসাইটও চালু করেছে এনবিআর। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করদাতারা ‘ওয়ান স্টপ’ সেবা পাবেন। এ প্রসঙ্গে এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার বলেন, মানুষ যাতে করসেবা সহজে নিতে পারে, সে জন্যই ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে। এবারের মেলায় এটি একটি আকর্ষণ। তিনি বলেন, আয়কর মেলায় আসার আগে ওয়েবসাইট দেখে এলে করদাতার অনেক সময় সাশ্রয় হবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj