পেঁয়াজের কেজি ১৫০ টাকা : মন্ত্রী বললেন ‘নিয়ন্ত্রণে’

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : পেঁয়াজের কেজি দেড়শ টাকা হলেও শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, পেঁয়াজের বাজার ‘নিয়ন্ত্রণে’ চলে এসেছে। মাসখানেকের বেশি সময় ধরে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম চলার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে বিষয়টি তোলেন বিএনপির সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান। গতকাল সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী এ দাবি করেন। নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, ভারতে হঠাৎ বন্যার কারণে আমাদের পেঁয়াজের বাজার গরম হয়ে যায়। এ সময় ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিও বন্ধ করে দেয়। তবে আমরা অতিসত্ত্বর তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। উৎপাদন ও সরবরাহ কম হওয়ার কারণে এই সময়ে পেঁয়াজের সংকট থাকে উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী হুমায়ুন বলেন, এই সিজনটি একটি ‘লিন’ সিজন। এ সময় একটা সংকট থাকে। আমাদের নতুন পেঁয়াজ এখনো উঠেনি। কিছু দিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ উঠবে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে আমদানির

ব্যবস্থা করেছি। ভারত থেকেও আমদানি চালু হয়েছে।

তিনি জানান, পেঁয়াজের বাজার যেটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এসেছে। এ ছাড়া কোথাও যেন বেশি দামে কেনাবেচা না হয় তা তদারকিতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট কাজ করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগে ভারত থেকে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য যেখানে প্রতি টন ২৫০-৩০০ ডলার ছিল, এ সিদ্ধান্তের ফলে তা ৮৫০ ডলারে দাঁড়ায়। এতে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ভারতের স্থানীয় বাজারে অস্বাভাবিক হারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

তিনি জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রিসহ তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এদিকে বগুড়া-৬ আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, সার্কভুক্ত সাতটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশগুলোতে রপ্তানি হয় এক হাজার ৪০৮ দশমিক ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময় আমদানি হয় আট হাজার ৩৯৬ দশমিক ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ঘাটতি ছয় হাজার ৯৮৮ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি সাত হাজার ৭৪৮ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাকিস্তানের সঙ্গে ৪৭১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার, ভুটানের সঙ্গে ২৭ দশমিক ৯০ মার্কিন ডলার, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ১৬ দশমিক ২০ ডলার, মালদ্বীপের সঙ্গে ১২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে দুই মিলিয়ন ডলার।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ তৈরি পোশাক শিল্প থেকে অর্জিত হয়।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj