বিদেশে নারী শ্রমিক না পাঠানোর দাবি

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নারী শ্রমিকদের শারীরিক নির্যাতনের বিষয়ে সংসদে হইচই করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। তারা বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বিরোধীদলীয় সাংসদ জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু, কাজী ফিরোজ রশীদ ও সুলতান মনসুর আহমেদ। তারা প্রত্যেকেই নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের দাবি করেন। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ জানিয়েছেন, এ নিয়ে সাধারণ নাগরিক এবং বিরোধী সাংসদদের চেয়ে সরকার বেশি চিন্তিত।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, আমাদের ঘরে মা-বোন নাই, কেন কয়েকটা টাকার জন্য পাঠাব? মহিলাদের সৌদি আরব যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। আমাদের দূতাবাস কোনো পদক্ষেপ নেয় নাই। মন্ত্রী কোনো খবর রাখেন না, দালালরা পাঠাইছেন উনি (মন্ত্রী) খালাস। এ তো বেচাকেনা হচ্ছে রীতিমতো। মেয়েদের হাট বসে, কে কত দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যাবেন। অবিলম্বে বন্ধ করবেন কিনা। এই টাকার আমাদের প্রয়োজন নেই।

সুলতান মনসুর আহমেদ বলেন, দেশের মানমর্যাদা ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে মহিলা শ্রমিক না পাঠিয়ে পুরুষ শ্রমিককে পাঠান। আয় দ্বিগুণ হবে। দেশের মানও বাঁচবে। পারিবারিক পরিবেশ সুন্দর থাকবে, দেশের মর্যাদা অক্ষুণœ থাকবে ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে। না হলে আমরা দাসত্বের বাংলাদেশে পরিণত হব।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবকিছু যেভাবে চিন্তা করা হয় সেভাবেই হয়। সৌদি, মালয়েশিয়া যেখানেই বলেন শ্রমবাজার অনুযায়ী ওনারা যেভাবে চায় ওই হিসাবেই পাঠাতে হবে। আর না হলে পাঠানোর দরকার নাই।

আমরা চেষ্টা করব, মহিলারা যেন সম্মানজনভাবে ওখানে চাকরি করতে পারেন, আর যদি একেবারেই না করতে পারে তাহলে না পাঠানোর চিন্তা করব।

নারী কর্মীদের ইজ্জত রক্ষার জন্য কোনো রকম উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা- মুজিবুল হক চুন্নুর এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গৃহকর্মীর ব্যাপারে আপনারা যত চিন্তিত, এর চেয়ে বেশি কিন্তু সরকার চিন্তিত। সেই ব্যাপারে অনেক পদক্ষেপ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগেই এখানে সৌদি আরবের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্সকে আমার অফিসে ডেকেছিলাম। বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়েছে। রিয়াদে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে ওখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে বিষয়গুলো উত্থাপনের জন্য। আগামী ২৬-২৭ নভেম্বর সৌদি আরবে যে যৌথসভা হবে সেখানে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ক্লেইম যে আছে, নির্যাতনের ক্লেইম যেটা আছে, কেন নির্যাতিত হয় এবং এখান থেকে যে সব মহিলাদের পাঠাই কোনো ব্রিফিং না দিয়ে কোনো ট্রেনিং না দিয়ে, কিছু না দিয়ে গৃহকর্মী বলে রিক্রুটিং এজেন্টরা পাঠিয়ে দেয়। আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি এরপর গৃহকর্মী যারা যাবে তাদের কমপক্ষে ১ মাসের ট্রেনিং দিতে হবে, যাতে ওখানে গিয়ে নির্যাতিত না হয়। যেসব এজেন্ট বিদেশে নারী কর্মী পাঠায় তাদের জন্য আইন করে দিচ্ছি।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj