অভিষেকের অপেক্ষায় মুমিনুল

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথ চলা শুরু হয় ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর থেকে। সে বছর নাইমুর রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্বে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে অভিষেক টেস্টে মুখোমুখি হয় টাইগাররা। সেই থেকে আঠারো পেরিয়ে ঊনিশে মুমিনুলরা। টেস্ট ক্রিকেটে ২০০০ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আলাদা ১০ জন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলেছে বাংলাদেশ। আগামীকাল ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে মাঠে নামছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। আর এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে তার ১১তম টেস্ট অধিনায়ককে। ম্যাচটিতে নতুন অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রামের ছেলে মুমিনুল হক।

বাংলাদেশ এ পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচ খেলেছে ১১৫টি। জয় পেয়েছে ১৩টি ম্যাচে। হেরেছে ৮৬টি ম্যাচে। আর ড্র করেছে ১৬টি ম্যাচ। প্রথম অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্বে ২০০০-২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ খেলেছে ৭টি। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কোনো জয় তুলে নিতে না পারলেও একটি ম্যাচ ড্র করেছিল। দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে ২০০১-২০০৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন খালেদ মাসুদ পাইলট। তার নেতৃত্বে ১২টি ম্যাচ খেলে ১২টিতেই হারে বাংলাদেশ। তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে ২০০৩-২০০৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তার নেতৃত্বেও ৯টি ম্যাচ খেলে কোনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। খালেদ মাহমুদের পর ২০০৪ সালে অধিনায়কের দায়িত্ব পান হাবিবুল বাশার। তার নেতৃত্বে ১৮টি ম্যাচ খেলে টেস্টে প্রথম জয় পায় টাইগাররা। হাবিবুল বাশারের পর ২০০৮ সালে দায়িত্ব আসে তৎকালীন বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলের কাঁধে। আশরাফুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৩টি ম্যাচ খেলে ১২টিতে হারে ও একটি ম্যাচ ড্র করে। আশরাফুলের পর ২০০৯ সালে দায়িত্ব পান মাশরাফি মুর্তজা। কিন্তু বাংলাদেশকে মাত্র একটি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েই তিনি ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। তার নেতৃত্বে একটি ম্যাচ খেলে একটিতেই জয় পায় বাংলাদেশ। মাশরাফি ইনজুরি আক্রান্ত হলে অধিনায়কের দায়িত্ব পান সাকিব আল হাসান। সাকিব বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের একমাত্র অধিনায়ক যিনি একবার অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর আবার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। প্রথমবার তিনি দায়িত্ব পালন করেন ২০০৯-২০১১ সাল পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয়বার দায়িত্ব পালন করেন ২০১৭-২০১৯ সাল পর্যন্ত। তার নেতৃত্বে ১৪টি ম্যাচ খেলে ৩টি ম্যাচে জয় ও ১১টি ম্যাচে হারে বাংলাদেশ। ২০১১ সালে সাকিবকে বহিষ্কার করার পর দায়িত্ব পান মুশফিকুর রহিম। তার নেতৃত্বে সবচেয়ে বেশি ৩৪টি ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। জয় পেয়েছে ৭টিতে। হেরেছে ১৮টি ম্যাচে। আর ড্র করে ৯টি ম্যাচ। মুশফিকের পর বাংলাদেশকে মাত্র একটি ম্যাচে নেতৃত্ব দেন তামিম ইকবাল। তার নেতৃত্বে একটি ম্যাচ

খেলে একটিতেই হারে বাংলাদেশ। তামিমের পর অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার নেতৃত্বে ৬টি ম্যাচ খেলে ১টি ম্যাচ ড্র, ৪টিতে হার ও একটি ম্যাচে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। তামিম এবং মাহমুদউল্লাহ দুজনই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক হিসেবে আগামীকাল অভিষেক হচ্ছে জেনুইন টেস্ট ক্রিকেটার মুমিনুল হকের। তাই সাকিব আল হাসান আইসিসির নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর তার হাতেই টেস্ট ক্রিকেটের দায়িত্ব তুলে দেয় বিসিবি। মুমিনুল এখন পর্যন্ত ৩৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। রান করেছেন ২৬১৩। তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ১৮১। টেস্টে তার সেঞ্চুরি রয়েছে ৮টি। হাফসেঞ্চুরি ১৩টি। ক্রিকেটের এই সংস্করণে তার স্ট্রাইক রেট ৫৬.৭৪, যা অন্য অনেক ক্রিকেটারের জন্য ঈর্ষণীয়।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj