বুলবুলের ছোবলে হত ২২ এখনো নিখোঁজ ১৯

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

উপক‚ল তছনছ : লক্ষাধিক কাঁচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত, যোগাযোগ বিঘ্নিত >> ৩৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন পল্লী বিদ্যুতের ২৫ লাখ গ্রাহক >>

কাগজ প্রতিবেদক : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে উপক‚লীয় এলাকা তছনছ হয়ে গেছে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটসহ বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী জেলাগুলোর চারদিকের প্রকৃতি ও জনজীবনে এখন শুধু বুলবুলের ক্ষতচিহ্ন। বুলবুলের মরণকামড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। বরগুনা ও ভোলায় নিখোঁজ রয়েছেন ১৯ জেলে। এ ছাড়া বুলবুলের তাণ্ডবে লক্ষাধিক কাঁচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছ উপড়ে রাস্তায় পড়ে অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। গত ৩৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন আছেন পল্লী বিদ্যুতের ২৫ লাখ গ্রাহক। গতকাল পর্যন্ত সচল হয়নি উপক‚লীয় অনেক এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্ক।

তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ২ নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৪ থেকে ৫ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন গতকাল সোমবার জানিয়েছেন ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ১২ জনের মধ্যে ১১ জন ঝড়ের সময় গাছচাপা পড়ে এবং একজন আশ্রয়কেন্দ্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অন্যদিকে আমাদের প্রতিনিধিরা ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে পিরোজপুরে ২, খুলনায় ২, বরিশালে ১, পটুয়াখালীতে ২, বরগুনায় ১, বাগেরহাটে ২, গোপালগঞ্জে ১, শরীয়তপুরে ১ ও মাদারীপুরে ১ জন নিহত হয়েছেন।

এর আগে গত শনিবার রাত ৯টার দিকে ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার থেকে ১২৫ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগরদ্বীপ উপক‚লে আঘাত হানে। এতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। এরপর সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের উপর দিয়ে উপক‚ল অতিক্রম করে রবিবার ভোর ৫টার দিকে অনেকটা দুর্বল ও স্থল নি¤œচাপে পরিণত হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানলে উপকূলীয় জনপদ তছনছ হয়ে যায়। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ দুর্বল হয়ে সরে যাওয়ার পর থেকে সব জেলায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। গতকালও ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত ছিল। বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল করতে মোবাইল কোম্পানিগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

পিরোজপুর : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে নাজিরপুরে বসতঘরের উপর গাছ উপড়ে পড়ায় ননী গোপাল মণ্ডল (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের এবং ভাণ্ডারিয়ায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সুমী (৮) ও নাসির (১৬) নামে দুই শিশুসহ এই জেলার বিভিন্ন স্থানে ২১৭ জন আহত হয়েছেন। ৩ হাজারের বেশি কাঁচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি বনাঞ্চল, কৃষি জমি, মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পিরোজপুর জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বুলবুলের কারণে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। জেলার ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আংশিক ক্ষতিসহ ৫৪ কি.মি. সড়ক, ১৬৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯৪৩টি নলক‚প, সাড়ে ১২শ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, ১০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৫৭ লাখ টাকার গবাদি পশু, ১১ কোটি টাকার খামার, ১২৩ কোটি টাকার কৃষি ও অকৃষি জমির ধান, শীতকালীন সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে মঠবাড়িয়া উপজেলার কচুবাড়িয়া ও খেতাছিড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্লাবিত হয়েছে নি¤œাঞ্চল।

পটুয়াখালী : পুরো জেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মির্জাগঞ্জের উত্তর রামপুরা গ্রামে ঘরের ওপর গাছ চাপা পড়ে হামেদ ফকির (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কলাপাড়া উপজেলার পূর্ব ধানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাইক্লোন শেল্টারে রিজিয়া বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে শনিবার গভীর রাত থেকে অন্ধকারাছন্ন হয়ে পড়ে উপক‚লীয় জেলা পটুয়াখালী। ২৭ ঘণ্টা পর গতকাল সোমবার জেলা শহরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল হলেও ৬ উপজেলা বিদ্যুৎহীন অবস্থায়ই থেকে যায়।

খুলনা : উপক‚লীয় দাকোপ উপজেলায় রবিবার সকালে গাছ চাপা পড়ে প্রমিলা মণ্ডল (৫২) নামে এক নারী ও দিঘলিয়া উপজেলায় সেনহাটি গ্রামে আলমগীর হোসেন (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানিয়েছেন, এই জেলায় ৩ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। শুধু কয়রা উপজেলায় দেড় হাজার এবং দাকোপ উপজেলায় ১ হাজার ৭৬৫টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এ ছাড়া দাকোপ উপজেলায় ৩১৫টি চিংড়ির ঘের ও ৪২৫টি পুকুর ভেসে গেছে। কয়েক হাজার গাছপালা উপড়ে পড়েছে। রাস্তায় গাছ পড়ে অনেক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গোটা খুলনা জেলা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।

বাগেরহাট : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে রামপাল ও ফকিরহাট উপজেলায় সামিয়া খাতুন (১৫) ও হীরা বেগম (২৫) নামে দুইজন নিহত হয়েছেন। বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঝড়ে বাগেরহাটের ৬২টি ইউনিয়ন কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৩২ হাজার মানুষ দুর্যোগকবলিত। জেলায় ৩৫ হাজার ৭৭৫টি ঘরবাড়ি আংশিক এবং আট হাজার ৭৮৮টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে বেড়িবাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বাঁধ মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাহায্য করতে চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

বরগুনা : সদর উপজেলার ডিএন কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে হালিমা খাতুন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা এবং বড়িরচর ইউনিয়নে গাছ থেকে পড়ে মহিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘরচাপা ও গাছ পড়ে আহত ১৭ জনকে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের বানাই গ্রামের হালিমা খাতুন শনিবার রাতে ডিএন কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। আর সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ছোট লবণগোলা গ্রামের মহিবুল্লাহ রবিবার বিকেল ৪টার দিকে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত গাছের ডাল কাটার সময় গাছ থেকে পড়ে আহত হন। পরে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে আনার পর তিনি মারা যান। তিনি আরো জানান, বুলবুলের আঘাতে পাঁচ হাজার ২৩৫টি বসতঘর এবং ৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে। সাড়ে ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ক্ষতি হয়েছে। ৯ হাজার ৮৭৩ হেক্টর জমির আমন ধান এবং ৫৫০ হেক্টর জমির শাক-সবজি ও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, শনিবার সকালে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে ১৫ জন জেলেসহ একটি মাছধরার ট্রলার নিখোঁজ হয়। রবিবারও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা : কেউ নিহত না হলেও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব অঞ্চলে মাছের ঘের ও ফসলি জমির পাশাপাশি রাস্তাঘাটেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ২৫ হাজার হেক্টর আমন ধান, ১২শ হেক্টর জমির সবজি, ৫০০ হেক্টর জমির সরিষা, ২০০ হেক্টরের কুল ও ১২০ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়েছে। ঘণ্টায় ৮১ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায়। বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুড়া ইউনিয়নের চিংড়ি ঘের ও ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তার ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ভোলা : ভোলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে এই দ্বীপ জেলায় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আহত ২০ জনের মধ্যে ৫ জনকে চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর, মনপুরা উপজেলার চর মোজাম্মেল, কলাতলির চর ও তজুমুদ্দিন উপজেলার চর জহিরুদ্দিনের নি¤œাঞ্চল ৩ থেকে ৪ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। ঝড়ের সময় ভোলা সদরের ইলিশা এলাকায় মেঘনা নদীতে ২৪ জন জেলে নিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলারের ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৩ জন এখনো নিখোঁজ বলে জানা গেছে। বর্ষণ ও দমকা বাতাসে আমন ধান ও খেসারির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বরিশাল : বুলবুলের তাণ্ডবে ঘরের নিচে চাপা পড়ে আশালতা মজুমদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। গত রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মাদারশী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

গোপালগঞ্জ : কোটালীপাড়ায় গাছ চাপা পড়ে সেকেল হাওলাদার (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে গেছে। এ ছাড়া সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে।

শরীয়তপুর : নড়িয়া উপজেলায় ভেঙে পড়া গাছ চাপায় মো. আলীবক্স ছৈয়াল (৬৮) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এলাকায় গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে।

মাদারীপুর : ঘরের নিচে চাপা পড়ে সা?লেহা বেগম (৪০) না?মে এক নারী নিহত হয়েছেন।

নৌযান ও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক : বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সব নৌরুটে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। রাজধানীর সদরঘাট থেকে সব রুটের লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযান গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী, লক্ষীপুর-ভোলা নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম-পরিচালক (ট্রাফিক) আলমগীর কবির বলেন, সদরঘাটে এখন স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। বরিশাল নদীবন্দর থেকেও নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়ার পর থেকে নদীবন্দরগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়।

সেন্টমার্টিন থেকে ১২শ পর্যটক ফিরেছেন : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপে আটকে পড়া ১২শ পর্যটক গতকাল সোমবার বিকেলে টেকনাফে ফিরেছেন। সতর্ক সংকেত উঠে যাওয়ায় সকালে এলসিটি কুতুবদিয়া ও কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডাইন নামের জাহাজ দুটি সেন্টমার্টিনে যায়। বিকেলেই তাদের টেকনাফে নিয়ে আসা হয়। গত ৮ অক্টোবর থেকে তারা সেখানে আটকা ছিলেন।

বিদ্যুৎহীন জনজীবন : বুলবুল আঘাত হানার আগেই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গত শনিবার রাতে ১৪টি জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে উপক‚লীয় এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ২৫ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। বিদ্যুৎ না থাকায় রবিবার দুপুর থেকে মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিআরইবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের লাইনে পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। কোথাও ঝড়ো বাতাসের কারণে বিদ্যুতের ক্যাবল ছিঁড়ে গেছে। এসব কারণে উপক‚লীয় জেলাগুলোর লাখ লাখ গ্রাহক এখন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় ৭০ হাজার কিলোমিটার লাইনে বিদ্যুৎ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি, ট্রান্সফরমার ও ইনসুলেটরসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামত না করেই সঞ্চালন লাইন চালু করা যাচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ৯ হাজার কর্মীর সঙ্গে সমিতির আরো ২০০ কর্মী লাইন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj