মন্ত্রিসভার সায় পেল পিপিপি আইন

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (সংশোধন) আইন (পিপিপি) ২০১৯-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনাসহ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গত ১০ থেকে ১৪ জুলাই রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত নবম আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ডিফেন্স শোয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে অবহিত করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জনগণের জীবন মান উন্নয়ন, আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি আকৃষ্ট করার মধ্য দিয়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আইন ২০১৯-এর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে বছরে ছয়টির পরিবর্তে বোর্ড অব গভর্নসের একটি সভা অনুষ্ঠানের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য আলাদা বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পিপিপি আইনের বাস্তবায়ন পর্যায়ে লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে আইনে কতিপয় সংশোধন আবশ্যক হওয়ায় এটি সংশোধন করা হয়েছে। পিপিপি কর্তৃপক্ষের বোর্ড অব গভর্নসের প্রথম সভায় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী বোর্ড গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাহী বোর্ডের গঠন, দায়িত্ব ও সভা অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়াদি বিদ্যমান আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পিপিপি আইনে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলিতে পিপিপি সম্পর্কিত নীতিমালা/প্রবিধি/নির্দেশনা/গাইডলাইন প্রণয়ন, অনুমোদন, গেজেটে প্রকাশ ও জারিকরণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এখন নীতিমালা/প্রবিধি/নির্দেশনা ও গাইডলাইনের সঙ্গে ‘কার্যপ্রণালি’ শব্দটি সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, পিপিপি কর্তৃপক্ষের সাংগঠনিক কাঠামোতে কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান রয়েছে। বিদ্যমান আইনে পিপিপি কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়োগ করা কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হবে। কর্তৃপক্ষে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আলাদা বিধানাবলি সংযোজনের ধারা সংশোধন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ড অব গভর্নস অনুমোদিত গাইডলাইন বা বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

অন্য দেশও এই প্রক্রিয়ায় প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের জি-টু-জি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনে তিনটি উপ-ধারা সংযোজন করা হয়েছে। পিপিপি চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সেবার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার সার্বিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। এ কারণে পিপিপি চুক্তি সম্পাদনের পর সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি অংশীদারকে সহায়তা দেয়ার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj