ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি ফেরা হলো না রেশমার

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়া হলো না রেশমা বেগমের (৩২)। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিজে প্রাণে বেঁচে গেলেও স্বামী আসাদুল হক ইপু (৩৮) ও একমাত্র ছেলে সোহানকে হারিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিজেও চিকিৎসাধীন তিনি। গতকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে বেপরোয়া একটি ট্রাক মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইপুর মামা শ্বশুর অহিদুর রহমান জানান, তারা রাজধানীর সায়েদাবাদ করাতিটোলায় থাকেন। রেশমা গৃহিণী ও স্বামী আসাদুল স্কয়ার গ্রুপের একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিন ছেলে তাদের। তিনি আরো জানান, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তারা ৩ জন মোটরসাইকেল করে কেরানীগঞ্জে যাচ্ছিলেন বাবার বাড়িতে। পথে রুহিতপুর এলাকায় একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তারা ছিটকে পড়েন। পরে আশপাশের মানুষ দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ইপু ও তার ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩ জনকে উদ্ধার করে পথচারিরা হাসপাতালে নিয়ে আসলে সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্য চিকিৎসক বাবা-ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে। তবে তার স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর নয়। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে উল্টোপথে আসা এক মোটরসাইকেল চালককে বাঁচাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় রামপুরা থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মাসুদ পারভেজসহ চালক কনস্টেবল মোহসিন ও আনসার আকিদুল ইসলামসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন জাতীয় সংসদ ভবনের পেছনে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তদের রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাদের পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল ও চালক সাতিল আহমেদকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। শেরেবাংলা নগর এলাকায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের সার্জেন্ট ফারুক মিয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj