ঢাবিতে চান্স পেয়েও ভর্তি অনিশ্চিত ইমনের

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় মেধাবী ইমনের পরিবার পড়েছে এক ধরনের বিপাকে। কারণ তার বাবা ভক্ত দাস সেলুনে কাজ করে বহু কষ্টে সংসার চালান। যে রোজগার হয় তা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঠিকমতো খাবার জোগাড়ই হয় না। সেখানে ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসহ ঢাকা শহরে রেখে লেখাপড়ার খরচ কীভাবে জোগাবেন এমন মহাচিন্তায় পড়েছেন তার হতদরিদ্র বাবা-মা। ইমন দাসের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে। ইমন এ বছর শহরের সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এখন তিনি অনার্সে ভর্তির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু বাড়ি থেকে ঢাকার মতো ব্যয় বহুল শহরে থেকে কীভাবে খরচ জোগাবে তার পরিবার সে চিন্তায় পড়েছে।

সরেজমিন মেধাবী ছাত্র ইমনের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, মাত্র ২ শতক জমির মাটির ওপরে বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘেরা টিনের ছাউনির ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস। এখান থেকে লেখাপড়া করেই এ পর্যন্ত তার শিক্ষাজীবনের সবকটি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

মেধাবী ইমন দাস বলেন, আমার বাবা-মা খুব বেশি লেখাপড়া জানেন না। তারপর তারা আমাদের ২ ভাইয়ের লেখাপড়া শেখাতে যে কষ্ট করেন তা দেখে আমার নিজেরই কষ্ট লাগে।

বাবা ভক্ত দাস বলেন, ৬ সদস্যের সংসারে মা ক্যান্সারের রোগী। একমাত্র আমিই সংসারের উপার্জনশীল ব্যক্তি। নিজে সারাদিন কাজ করে যা রোজগার হয় তা দিয়ে সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারি না। এর মধ্যে শত অভাবের মাঝেও ইমন আর শিমন দুই ছেলেকে লেখাপড়া শিখাচ্ছি। ছোট ছেলে শিমন এসএসসি পরীক্ষার্থী। আর ইমন এ বছর অনার্সের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এখন ভর্তিসহ যাবতীয় খরচের টাকা জোগাড় করাটা আমার জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছেলে একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরও ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পারাটা একজন বাবার জন্য বড় কষ্টের ব্যাপার। ইমনের মা উষা রানী দাস জানান, অভাবের সংসারে দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে সব সময় হিমশিম খেতে হয়।

অনেক সময় সংসারের খাবার না কিনেও সন্তানদের লেখাপড়ার সামগ্রী কিনে থাকেন। কিন্তু এতদিন একটা পর্যায়ে ছিল এখন কীভাবে ইমনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও খরচের টাকা জোগাড় করবেন সে কারণে তাদের সব সময় চিন্তা করতে হচ্ছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj