ছোট ছবির বড় উৎসব

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ। ধ্বংস থেকেই নতুনের জন্ম। যুদ্ধ শেষে প্রত্যাশার সূর্য হাতে নিয়ে বিজয়ী টগবগে তরুণদের একটি দল এগিয়ে গেল মঞ্চের দিকে। আরেকটি দল কাঁধে তুলে নিল ক্যামেরা। তাদের স্বপ্ন গতানুগতিকতার বাইরে নতুন কিছু তৈরি করা। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮০। সম্ভাবনা ও প্রতিশ্রæতিতে ভরা চারটি বছর। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলেও তারা বসে থাকেনি। ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ থেকে চলচ্চিত্রের অ্যাপ্রিসেয়শন কোর্স করে ঝাঁপিয়ে পড়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে। স্বল্প ব্যয়ে তারা নির্মাণ করে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি। বিকল্পধারার এ ছবিগুলোর বিকল্প প্রদর্শন দর্শকদের সমাদৃত হয় ব্যাপকভাবে। নির্মাণ আর প্রদর্শন করে বসে থাকেননি তরুণ নির্মাতারা। ১৯৮৬ সালের ২৪ আগস্ট গঠন করেন বাংলাদেশ শর্টফিল্ম ফোরাম। নিজেদের প্রচেষ্টায় দুই বছর পর তারা আয়োজন করে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির আন্তর্জাতিক উৎসব। যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, উপমহাদেশের প্রথম উৎসব স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির আন্তর্জাতিক উৎসবও এটি।

বাংলাদেশ শর্টফিল্ম ফোরাম ৩৩ বছরের ইতিহাসে এ পর্যন্ত উৎসব করেছে ১৪টি। আর এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৫তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব। ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উৎসবে দেখানোর জন্য প্রায় ৬০টি দেশের ৫০০ অধিক ছবি জমা পড়ে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন করা হয় দুইশ ছবি। আর যা দেখানো হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত ছবির ১৫তম আন্তর্জাতিক আসরে।

উৎসবের বিভিন্ন বিভাগে বাংলাদেশের ছবির পাশাপাশি জার্মান কনটেম্পোরারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ফরাসি, লিথুনিয়ান, আফ্রিকান চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এবারের উৎসবের রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় চলচ্চিত্রকার কুমার সাহানি ও কমল স্বরূপের ৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া মিজ-অ-সিন বিষয় নিয়ে কুমার সাহানি একটি ক্লাস নিবেন।

এবার উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে আব্বাস কিরস্তামি, মায়া ডেরেন, জনাস মেকাস, এগনেস ভারদা, মৃণাল সেন, সাঈদুল আনাম টুটুল, আনোয়ার হোসেনের মতো প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের স্মৃতির উদ্দ্যেশে। এ ছাড়া উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে উৎসবের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বিচারকদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এ ছাড়া এবারের উৎসবে কন্টেম্পরারি এশিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমা বিভাগে সাম্প্রতিক সময়ের এশিয়ার কিছু উল্লেখযোগ্য পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। যার মধ্যে রয়েছে অমিতাভ চ্যাটার্জীর মনোহর এন্ড আই, স্বপ্না মতি ভাবানীর সিন্দুস্তান, সুপ্রিয় সেনের সুইমিং থ্রু দ্য ডার্কনেস, শাহীন দিল রিয়াজের ব্যাম্বু স্টোরিস এবং আকরাম খান পরিচালিত খাঁচা।

উৎসবের প্রধান ভেন্যু জাতীয় গ্রন্থাগার প্রধান অডিটোরিয়াম। ৭ ডিসেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে ৮ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ ছাড়া জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায়ও প্রদর্শিত হবে চলচ্চিত্র।

অতিথি হিসেবে যাদের পদচারণায় মুখরিত হবে উৎসব প্রাঙ্গণ, তারা হলেন- ভারতের কমল স্বরূপ, কুমার সাহানি, ড. রিমলি ভট্টাচার্য, সন্দীপ চ্যাটার্জী, নামান রামাচান্দ্রান, অনির্বাণ দত্ত, ইরানের সাঈদনেজাতি, লিথুয়ানিয়ার লাইনাসমিকুতা, মালয়েশিয়ার গাজী আল-কুদসী, হংকংয়ের স্যাম হো এবং তাজিকিস্তানের সারাফত আরাবভা।

:: তিলোত্তমা সেন

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj