পঞ্চগড়ে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৭ ইজিবাইকযাত্রী : পৃথক দুর্ঘটনায় আরো ৩ জনের মৃত্যু

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : পঞ্চগড়ে ইজিবাইক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ইজিবাইকের ৭ যাত্রীই নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া জাতীয় মহাসড়কের মাগুরমারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দিন কেরানীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলযাত্রী বাবা-ছেলে এবং চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে এক অটোরিকশা আরোহী নিহত হয়েছেন। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-

পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে ইজিবাইক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ইজিবাইকের ৭ যাত্রীই নিহত হয়েছেন। দুপুর দেড়টার দিকে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া জাতীয় মহাসড়কের মাগুরমারী এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে যাত্রীবাহী একটি বাস তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। মাগুরমারী এলাকায় যাত্রীবোঝাই ব্যাটারিতচালিত ইজিবাইকটি সেখানে মোড় নিচ্ছিল। এ সময় বাসের চাপায় ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে বাসের নিচে চলে যায়। ইজিবাইকের সাত যাত্রীর মধ্যে এক নববধূসহ চারজন ঘটনাস্থলে মারা যান। তিনজনকে গুরুতর আহতাবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো একজন এবং হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান বাকি দুজন।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের চেকরমারী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে অটোচালক রফিক (৪২), একই উপজেলার রায়পাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মাকুত হোসেন (৪০), সাহেবজোত গ্রামের আকবর আলীর স্ত্রী নার্গিস বেগম (৩৫), বদিনা জোত ছুড়িভিটা গ্রামের মৃত বসির উদ্দিনের ছেলে আকবর আলী (৭০), মৃত আকবর আলীর স্ত্রী নুরীমা (৪৫), তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের লাবু হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী মুক্তি বেগম (৩৬)।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নিরঞ্জন সরকার ছয়জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার খবরে আমরা ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা আমাদের ওপর চড়াও হন। তাদের জন্য আমরা ঠিকমতো উদ্ধার কাজ করতে পারিনি। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় বিক্ষুব্ধরা পুলিশসহ ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর চড়াও হন। বিক্ষুব্ধরা আধুনিক সদর হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করেন বলে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মনছুর আলম জানান।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) : কেরানীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল যাত্রী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- আসাদুল হক ইপু (৪০) ও তার সন্তান সোহান (৬)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আসাদুলের স্ত্রী রেশমা আক্তার। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের রোহিতপুর পোড়াহাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পথচারীরা তিনজনকেই আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে আসাদুল ও সোহানকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

ঢামেকে ভর্তি রেশমা আক্তার জানান, রাজধানীর সায়েদাবাদ করাতিটোলা এলাকায় তারা থাকেন। তার স্বামী বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। শুক্রবার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে নবাবগঞ্জের বাগমারা এলাকায় শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। তাদের মোটরসাইকেলটি রোহিতপুর পোড়াহাটি এলাকায় পৌঁছলে একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই ছিটকে পাকা সড়কে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে।

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাস-সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে এক অটোরিকশা আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম রণজিত বড়–য়া (৫৫)। তিনি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার কুলকুরমাই গ্রামের মৃত জতিন্দ্র লাল বড়–য়ার ছেলে বলে জানা গেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার গৈড়লার টেক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ধর্মীয় কীর্তনে অংশগ্রহণের জন্য রণজিত বড়–য়া পটিয়া আসেন। সেখানে ধর্মীয় কীর্তন শেষে শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে রাঙ্গুনিয়া ফেরার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার গৈড়লার টেক এলাকায় পৌঁছলে তাকে বহনকারী সিএনজির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা কক্সবাজারমুখী গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রণজিত বড়–য়া নিহত হন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj