খুলনায় প্রস্তুত ৩৪৯ আশ্রয় কেন্দ্র

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

বাবুল আকতার, খুলনা থেকে : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় খুলনার সব সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান ও প্রয়োজনীয় তদারকিসহ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ৩৪৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে খুলে রাখা হয়েছে খুলনার সব উপজেলার বিদ্যালয়।

‘বুলবুল’ মোকাবেলায় গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ৩৪৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য খুলে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে ইতোমধ্যে বার্তা পৌঁছানো হয়েছে এবং খুলনায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা হয়েছে যার নম্বর ০৪১-২৮৩০০৫১।

সভায় আরো জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ইতোমধ্যে রাসমেলামুখী সকল নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রেডক্রিসেন্টসহ উদ্ধারকর্মীরা প্রস্তুত আছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, অর্থ, ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, কৃষি বিভাগমহ সকল বিভাগ তাদের অধিক্ষেত্রে সম্পদ রক্ষার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের ছুটি বাতিল করেছে। খুলনা জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা আক্রান্তপ্রবণ এলাকা। এই সকল এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরে একই স্থানে খুলনার ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার সুবাস চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে খুলনা বিভাগীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় পর্যায়ে যে নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি খোলা হয়েছে তার নম্বর-০৪১-৮১৩৯৪০ এবং ০৪১-৮১৩৯৮১। সভায় জানানো হয়, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য খুলনায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে সভা-সমাবেশ ও বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিড়া, গুড়, মুড়িসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ মজুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে একটি জরুরি মনিটরিং কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ ছাড়াও দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলার সব উপজেলায় একটি করে জরুরি কেন্দ্র খোলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে দুর্যোগের আগে, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ শেষে পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj