ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আজ

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ঘটনাবহুল ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আজ। ১৯৭৫ সালের আজকের দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। সেনাবাহিনীর ভেতরে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মাঝে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ওই দিন মুক্ত হন। সে দিন বেশ কিছুু সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আজকের দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যা’ দিবস হিসেবে পালন করে। অন্যদিকে বিএনপি পালন করে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে। দিনটি ‘সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান’ দিবস হিসেবে পালন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ সামরিক বাহিনীতে একটি অভ্যুত্থান ঘটান। একই সময় সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সাধারণ সৈনিকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। সাধারণ সৈনিকরা জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা এবং খালেদ মোশারফের অভ্যুত্থানকে সহজভাবে মেনে নেয়নি। তারা স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে ৬ নভেম্বরের মধ্যরাতের পর কামানের গোলাবর্ষণ করে সর্বাত্মক বিদ্রোহের সূচনা করে। ৭ নভেম্বর তারা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে। খালেদ মোশারফ এবং তার সহযোগীরা পালাতে গিয়ে বিদ্রোহী সৈনিকদের হাতে ধরা পড়ে নিহত হলেন।

অভ্যুত্থানকারী সৈনিকরা ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে ঢাকার রাজপথে বেরিয়ে আসে। তারা ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব জিন্দাবাদ’, ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’, ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ¯েøাগান দেয়। জনগণ ফুলের মালা দিয়ে হর্ষধ্বনি তুলে বিপ্লবী সৈনিকদের অভিনন্দন জানাল। অনেকে ট্যাংকের ওপরে চড়ে বসল। এভাবে রচিত হলো সৈনিক ও জনতার মধ্যে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয়ে এক অচ্ছেদ্য বন্ধন।

দিবসটি উপলক্ষে গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবার কোনো কর্মসূচি নেই আওয়ামী লীগের। দিবসটি উপলক্ষে দুদিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আগামীকাল শুক্রবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ। ইতোমধ্যে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে দলটি। বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ এই তথ্য জানান।

এদিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে বলেছেন, ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। ’৭৫-এর ৭ নভেম্বর সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে আমাদের মাতৃভূমি প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন অস্তিত্ব লাভ করে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান আমাদের সে পথ দেখিয়ে গেছেন, তার প্রদর্শিত পথ ধরেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসড়কে উঠে এসেছে। জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব অপরিসীম।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj