হৃদরোগে মৃত্যু বাড়াচ্ছে ট্রান্সফ্যাট

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : অসংক্রামক রোগে দেশে যে পরিমাণ মানুষের মৃত্যু হয় তার ৩০ শতাংশ হয়ে থাকে হৃদরোগে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যায়। আর হৃদরোগের অন্যতম কারণ ট্রান্সফ্যাট। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের হার ২ শতাংশ বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে ২৩ শতাংশ। আর হৃদরোগজনিত মৃত্যুর হার বাড়ে ৩৪ শতাংশ। ২০১০ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, উচ্চমাত্রার শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ করায় বাংলাদেশে বছরে অন্তত ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। তবে বাংলাদেশের মানুষ গড়ে কী পরিমাণ ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ করে তার পর্যাপ্ত কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। ‘ট্রান্সফ্যাট ও হৃদরোগ ঝুঁকি এবং গণমাধ্যমের করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব তথ্য জানান। গতকাল বুধবার বিএমএ মিলনায়তনে গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করে প্রজ্ঞা। এতে বক্তব্য রাখেন গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. রুহুল কুদ্দুস, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আবু আহমেদ শামীম, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জোবায়ের প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ট্রান্সফ্যাট বা ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিডের (টিএফএ) উৎস মূলত দুটি। প্রথমটি প্রাকৃতিক; গবাদিপশুর অন্ত্রে এটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। যার ফলে গরু-ছাগলের মাংস, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার মাখন, ঘিতে স্বল্পমাত্রায় এই ফ্যাট পাওয়া যায়। দ্বিতীয়টি কৃত্রিম; ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলের সঙ্গে হাইড্রোজেন যুক্ত করলে তেল জমে যায় এবং ট্রান্সফ্যাট উৎপন্ন হয়। এই আংশিক হাইড্রোজেনেটেড তেলই শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস যা ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত। এতে ২৫-৪৫ শতাংশ ট্রান্সফ্যাট থাকে। শিঙ্গাড়া, সমুচা, পুরি, বিস্কুট, চানাচুর, চিপসের মতো বেকারি পণ্য তৈরিতে হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া অনেক স্ট্রিট ফুড যেগুলো কড়া করে ভাজা হয় সেগুলোতে এবং রান্নার কাজে একই তেল বারবার ব্যবহার করলে তাতে ট্রান্সফ্যাট উৎপাদিত হয়। অনুষ্ঠানে আরো বলা হয়, বিশ্বে প্রতি বছর ১ কোটি ৭৯ লাখ মানুষ হৃদরোগে মারা যায়। যার মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

সা¤প্রতিক বছরগুলোতে হৃদরোগজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু এতটাই বেড়েছে যে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে ‘মহামারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাই শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট নির্মূল করতে আইন প্রণয়ন এবং এ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj