সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় চার্জশিট

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। গতকাল অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) এবং ১৯ (এফ) ধারায় দেয়া অভিযোগের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান আছে। র‌্যাব সদর দপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বুধবার বলেন, রমনা থানার এই মামলায় সকালে আদালতে চার্জশিট দিয়েছি আমরা। সেখানে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে তাকে আসামি করা হয়েছে। আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই নিজামউদ্দিন দুপুরে জানান, অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়েছে। তবে এখনো বিচারকের কাছে তোলা হয়নি। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান বলেছেন, সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। অবশ্য সম্রাটের আইনজীবীরা আদালতে বলেছিলেন, মাদক ও অস্ত্রের বিষয়ে স¤্রাটের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তারের সময় ঢাকায় তার কার্যালয়ে কী ছিল, তিনি তা জানতেন না। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, যেহেতু সম্রাটের কার্যালয় থেকে মদ ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, সেহেতু এর মালিক তিনি নিজে। তিনি এগুলো ব্যবহার করতেন। গত সেপ্টেম্ব^রে ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা স¤্রাট। ৭ আগস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

ওইদিন বিকালে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে। ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে স¤্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিনই তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় কেরানীগঞ্জের কারাগারে। পাশাপাশি রমনা থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয় স¤্রাটের বিরুদ্ধে। দুই মামলায় তাকে পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। স¤্রাট যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj