ঢাকায় এলিস ওয়েলস : বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরতের নথি চায় যুক্তরাষ্ট্র

বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো সাড়া দিয়েছে। এ জন্য ঢাকার কাছে ওই মামলার নথিপত্র চেয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নথি পাঠানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলসের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, সফররত যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীর সঙ্গে খুব আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। আমি তাকে বলেছি, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি, যার নাম রাশেদ চৌধুরী সে তোমাদের ওখানে পালিয়ে আছে। তোমরা তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছ না কেন? তোমরা আইনের শাসন বিশ^াস করো, আমরাও তা করি। একজন খুনিকে তোমরা ফিরিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করো।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগেও বহুবার খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের প্রস্তাব দেয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। এলিস ওয়েলস রাশেদ চৌধুরীর মামলার রায়ের কাগজপত্র পাঠাতে বলেছেন। আমরাও বলেছি সব কাগজপত্র আমরা দ্রুত পাঠাব।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, রাজনৈতিক সমাবেশের অধিকার নিয়েও আলাপ হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ভাসানচরের পরিস্থিতি জানতে চেয়েছে। আমরা বলেছি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনেক ঘনবসতি। পাহাড়ি ঢলসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়। ফলে রোহিঙ্গারা যদি ভাসানচরে যায়, তাহলে তারা ভালোই থাকবে।

তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস। গতকাল মঙ্গলবার সকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় পৌঁছেন বলে ক‚টনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ক‚টনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সহায়তা আদায় করাই এলিস ওয়েলসের এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য। সফরের প্রথম দিনে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এলিস ওয়েলস রোহিঙ্গা পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় যাবেন। ঢাকায় আসার আগে এলিস ওয়েলস ব্যাংককে সদ্য সমাপ্ত পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য ফোরামে অংশ নিয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় উদ্যোগ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া-ভারত-জাপান ‘চতুর্মাত্রিক’ আলোচনা অধিবেশনে যোগ দেন।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র প্রণীত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের মধ্যে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল বাস্তবায়ন করা অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের পশ্চিম উপক‚ল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপক‚ল অবাধ ও মুক্ত এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। এ জন্য বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া-ভারত-জাপানের জোড়ালো সমর্থন চায় যুক্তরাষ্ট্র।

এলিস ওয়েলস সফর শেষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকা ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj