‘দর্শকদের এক ধরনের আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছি’ : মাহবুবুর রহমান রুহেল

শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

মাহবুবুর রহমান রুহেল স্টার সিনেপ্লক্সের কর্ণধার। একের পর এক সিনেমা হল বন্ধের খবরের মাঝে তিনি নির্মাণ করছেন নতুন নতুন হল। স্বপ্ন দেখেন এ দেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেয়ার। সিনেপ্লেক্স ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা বলেছেন মেলার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহমেদ জামান

হল বন্ধের খবরের মাঝে আপনি কেন নতুন নতুন সিনেমা হল নির্মাণের ঝুঁকি নিচ্ছেন?

সারা পৃথিবীতেই একের পর এক সিঙ্গেল স্ক্রিন সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা যে এখন শুরু হয়েছে ব্যাপারটা তা না। এটার শুরু ভিসিআর, ভিসিডির যুগ থেকে। তবে ইউরোপ-আমেরিকাতে সিনেপ্লক্স চালুর পর এ অবস্থা অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। আমি যখন ২০০৪ সালে স্টার সিনেপ্লক্স চালু করি তখন থেকে গত দেড় দশকে দর্শকদের এক ধরনের আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছি। দেখেছি ভালো ছবি হলে তার দেখতে আসেন। ওই জায়গা থেকে আমি নতুন মাল্টিপ্লেক্স যেটাকে আপনারা সিনেপ্লেক্স বলছেন তাতে বিনিয়োগের সাহস পাচ্ছি।

এখন পর্যন্ত আপনি কত টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তার মধ্যে কি কোনো ব্যাংক লোন আছে?

আসলে কয়েক কোটি টাকাই বিনিয়োগ করেছি। এর মধ্যে ব্যাংক লোনও আছে। যেটা পেতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আমাদের নিজেদের পকেট থেকে বিনিয়োগ আছে।

ঢাকায় ২০টি, সারাদেশে ১০০টি হল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা কতদূর?

ইতোমধ্যে তো ঢাকায় ৩টি জায়গায় ১৫টি হল হয়ে গেছে। এরপর ঢাকার মিরপুর ও উত্তরাতে এবং কক্সবাজার, চট্টগ্রামে করবো। মিরপুরেরটি ডিসেম্বরে চালুর ইচ্ছা। কক্সবাজারেরটি হবে পুরোপুরি একটি বিনোদন কেন্দ্র। আর চট্টগ্রামেরটি হবে একটি মার্কেট প্লাস সিনেপ্লক্স।

এ ব্যবসায় সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?

সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সরকারের উচ্চ ট্যাক্স। হলের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আমদানি করতে আমাদের আশি শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। এ নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে আমরা অনেকবার কথা বলেছি। তারা আমাদের কথা মানতে নারাজ। তবে সরকার টিকেটের ওপর ট্যাক্স কমিয়েছে, এটা ভালো খবর।

আপনারা টিকেটের দাম বেশি রাখছেন, এমন অভিযোগও আছে।

না, আমরা বেশি রাখছি না। স্ট্যান্ডার্ড যে দাম হয়, সেটা রাখছি। তবে মহাখালী শাখার দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে এখানে আমাদের প্রচুর টাকা ভাড়া দিতে হবে। একইসঙ্গে এখানে আমরা এমন কিছু অত্যাধুনিক আসন বসিয়েছি যেগুলোর জায়গায় চাইলে ছয়টি সাধারণ আসন বসানো সম্ভব। সে হিসাব করলে তো ঠিকই আছে। তাছাড়া আমাদের মহাখালী শাখার টার্গেট দর্শক হচ্ছে গুলশান, বনানী, বারিধারাবাসীরা।

আপনারা সিনেমাও প্রযোজনা করছেন। প্রযোজনায় আসলেন কেন?

আমি চেয়েছি কিছু ভালো ছবির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে। তবে সেটা আমাদের দেশের নিয়মে না, হলিউডের মত একজন প্রযোজক গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করে পরিচালক খোঁজা। ‘ন ডরাই’র ক্ষেত্রে অংশুকে নিয়েছি কারণ সে অন্যদের মতো তার নিজের গল্প নির্মাণের জন্য আমাকে বলেনি। সে আমার গল্পই নিজের করে নিয়েছে। একটা তথ্য জানিয়ে রাখি সামনে আমি চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ ও নারীদের জাগরণ নিয়ে ছবি প্রযোজনা করব। কিন্তু এ দেশে যেটার সংকট দেখেছি ভালো চিত্রনাট্যকারের অভাব।

আরেকটা অভিযোগ শেয়ার মানি অনেক কম দেন আপনারা।

এটা জানি না আপনাকে কে বলেছে। আমরা প্রথম সপ্তাহে ৬০ থেকে ৫০ শতাংশ শেয়ার দিই। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪০ শতাংশ এবং তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ৩০ শতাংশ। যেটা বিশ্বব্যাপী প্রচলিত। আমাদের তো বিশাল বিনিয়োগ আছে এখানে। আমরা মানের সঙ্গে কোনো আপস করি না।

আপনারা অনেক যাচাই-বাছাই করে সিনেমা চালান বলে অনেকবার বলেছেন, এ প্রক্রিয়াটি কেমন?

আমরা চেষ্টা করি, ভালো গল্পের ও নির্মাণের ছবি চালাতে। তাছাড়া আমাদের এখানে ডিসিপি ফরম্যাটে ছবি চালাতে হয়। আমাদের দর্শকশ্রেণি হচ্ছে শিক্ষিত। তারা নেটফ্লিক্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে ছবি দেখছে। তাদের তো যেনতেন ছবি দেখানো যাবে না। অনুরোধে অনেক ছবি চালিয়েছি। পরে দেখা গিয়েছে এক বা দুসপ্তাহের বেশি চলেনি।

গত পনের বছরে আপনাদের এখানে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করা সিনেমা কোনটি?

আমি বলবো দেবী। এরপর আয়নাবাজী ও ঢাকা অ্যাটাক। এগুলো হলিউডের ছবির চেয়েও বেশি ব্যবসা করে। কারণ দর্শক আসলে বাংলা ছবিই দেখতে চায়। তবে তা ভালো ছবি হতে হবে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj