ভর্তি জালিয়াতি প্রকৃত মেধার বিকাশে অন্তরায়

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রতি বছর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস আসে সদ্য কলেজ পাস করা শিক্ষার্থীদের মনে খুশির জোয়ার নিয়ে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা তাদের দ্বারপ্রান্তে। তারা তাদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য রাত-দিন এক করে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কেউ নিজ এলাকায় কোচিং সেন্টারে, কেউ বা আরো ভালো প্রস্তুতির লক্ষ্যে ঢাকায় পাড়ি জমায়। কেউ বাসায় প্রাইভেট টিউটর রাখে। কিন্তু তাদের স্বপ্নগুলো তখনই ভেঙে যায় যখন কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়। ফলস্বরূপ যারা প্রকৃত মেধাবী তারা মেধাক্রমের একেবারে শেষপ্রান্তে অথবা বাদ পড়ে যায়। এতে প্রকৃত মেধাটি দেশের কোনো এক কোণে যথেষ্ট সুযোগের অভাবে নষ্ট হয় অন্যদিকে জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া অকর্মণ্য মস্তিষ্কটি নামমাত্র সার্টিফিকেট নিয়ে বের হয়ে দেশের বেকারত্ব তালিকা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো তাদের এহেন অবৈধ, অনৈতিক কাজে সাহায্য করে শিক্ষিত নামধারী কিছু অসাধু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যেগুলো কিনা মেধা বিকাশ ও আদর্শ মানুষ তৈরির সূতিকাগার, সেখানের ছাত্ররা। বিনিময়ে তারা মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে থাকে। ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতি সর্বজনজ্ঞাত, যার পেছনেও ছিল পূর্বোক্ত ব্যক্তিদের কালো হাত। এ ছাড়া অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির খবর অহরহ। ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি জালিয়াতি ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় প্রক্সির দায়ে জড়িত ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।’ (৩১ লধহঁধৎু, ২০১৮ লধমড়হবংি২৪.পড়স)। চারদিকে যখন এমন ভর্তি জালিয়াতির জোয়ার তখন প্রকৃত মেধাবীদের মেধা প্রশ্নের সম্মুখীন। তাদের মেধার বিকাশ প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে এই সমস্যার সমাধান কোথায়? সমাধান আদৌ আছে কি? সব সমস্যারই সমাধান হয় কিন্তু সমস্যা সমাধানকারীরা যদি সমস্যার কারণ হয় তখন আর কি বা করার থাকে। পর্দার বাইরে বেশ ফিটফাট দেখালেও পর্দার অন্তরালে কী চলে তা কে বলবে? তাই আমাদের নৈতিকতার জায়গা মজবুত করলে এ সমস্যার উত্তরণ সম্ভব নয়তো আমাদের মেধাবীরা যথার্থ সুযোগের অভাবে ঝরাপাতার মতো ঝরে যাবে আর অলস অকর্মণ্য মেধাগুলো শুধু সার্টিফিকেটের জোরে দেশের উচ্চপদে আসীন হয়ে দেশকে ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে নিয়ে যাবে।

যায়েদ খান

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj