ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানি : অনিয়মের তদন্ত শুরু

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ১৫টি চালানে ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানির অভিযোগে চার প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দিয়ে তদন্তে নেমেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। তারা গেম ইনস্ট্রুমেন্ট ঘোষণায় ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানি করেছে বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। ঢাকা কাস্টম হাউস, কমলাপুর আইসিডি ও বেনাপোল বন্দর দিয়ে এসব সরঞ্জাম খালাস হয়েছে। এম ইসলাম এন্ড সন্স, নিনাদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ ও এ থ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের এই চার প্রতিষ্ঠান এসবের আমদানিকারক। তাদের সঙ্গে সিএন্ডএফ এজেন্টও জড়িত। ক্যাসিনো নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে গত সোমবার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল বুধবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের। আজ বৃহস্পতিবার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের এবং রবিবার অপর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ডকুমেন্টস যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কাকরাইলে অধিদপ্তর কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম বলেছেন, ডাটাবেজে থাকা তথ্য ও প্রাপ্ত তথ্যে গরমিলের সূত্রে তদন্ত চলছে। চার প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনকে ধাপে ধাপে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছে বেশকিছু নথি চাওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ক্যাসিনোতে অভিযানের পরই এসব সরঞ্জাম আমদানি পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ক্যাসিনোর বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানির আড়ালে কারা রয়েছেন তা উদঘাটনে মাঠে নামে। প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পারে জুতার সরঞ্জাম, কম্পিউটার, মোবাইল যন্ত্রাংশ বা আসবাবপত্র আমদানির নাম করে চীন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে আসত ক্যাসিনো সরঞ্জাম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতির সুযোগ নিয়েও কখনো কখনো সরাসারি আমদানি করা হয়েছে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেম টেবিল, ক্যাসিনো ওয়ার গেম টেবিল। এর বাইরেও রয়েছে ক্যাসিনো চিপস, রেসিং কার্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। এসব মেশিনের দাম এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত। এনবিআর বলছে, ক্যাসিনোতে জুয়ায় টাকা লগ্নিকারী ব্যক্তিদের আয়কর ফাইলও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্ব^রে এ এম ইসলাম এন্ড সন্স জুতার সরঞ্জাম ও মোবাইল যন্ত্রপাতির ঘোষণা দিয়ে ক্যাসিনো চিপস ও রেসিং কার্ড আমদানি করেছে। ২০১৮ সালের মে মাসে নিনাদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার মাদার বোর্ড আমদানির ঘোষণা দিয়ে এবং এ থ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ সালের আগস্টে জন্মদিনের সরঞ্জাম আনার নাম করে দেশে নিয়ে আসে রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেম, ক্যাসিনো ওয়ার গেম টেবিল। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে এসব আমদানি করা হয়। এদের মধ্যে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে খেলার সামগ্রীর এইচএস কোড ব্যবহার করে উপরোক্ত চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও একটি পেপার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানও ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানি করেছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj